ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ এবং পরবর্তীতে তার বিষপানে আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক, ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভাইটকান্দি ইউনিয়নের বড়শুনুই গ্রামে। পুরো ঘটনায় স্থানীয় জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি একই গ্রামের বাসিন্দা রুবেল মিয়া (প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের জনক)। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একাধিক স্থানে অভিযান চালালেও এখনো তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত সোমবার (৩০ মার্চ) কিশোরী বাড়ি থেকে বাইরে গেলে একা পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক শারীরিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার সময় কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন যেন না শুনতে পারে, সেজন্য তাকে চুপ করিয়ে দেওয়া হয় বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ঘটনার পর কিশোরী বাড়িতে ফিরে বিষয়টি পরিবারের কাছে খুলে বলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর থেকে কিশোরী চরম মানসিক চাপে ভুগছিল। সে এক পর্যায়ে দাদির কাছে আবেগঘনভাবে বলে, “এ জীবন আর রাখতে চাই না।” এর কিছু সময় পরই সে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। দ্রুত তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রবিবার (২৯ মার্চ) রাতে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। তারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের পরিবার ফুলপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষেপ
| সময়কাল | ঘটনা |
|---|---|
| ২৯ মার্চ | কিশোরী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয় |
| ৩০ মার্চ | ধর্ষণের অভিযোগ স্থানীয়ভাবে প্রকাশ পায় |
| ৩০ মার্চ (পরবর্তীতে) | চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিশোরীর মৃত্যু নিশ্চিত হয় |
| পরবর্তীতে | থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয় |
| চলমান | অভিযুক্ত রুবেল মিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে |
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দাবি করেছেন, শুধু গ্রেপ্তার নয়, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় পুরো উপজেলা জুড়ে শোক ও ক্ষোভের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নও সামনে এসেছে। পরিবার ও স্থানীয়দের একমাত্র প্রত্যাশা, দ্রুত অভিযুক্তের গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
