যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত না রেখে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সমাপ্ত করার পরিকল্পনা করেছেন। বিষয়টি প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, যা মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাতে তথ্য সংগ্রহ করেছে। প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতা ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক উদ্দেশ্য।
হরমুজ প্রণালির অবস্থা এবং ঝুঁকি
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের শক্ত নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘায়িত হতে পারে যদি যুক্তরাষ্ট্র জলপথটি জোর করে পুনরায় খোলার চেষ্টা না করে। এছাড়া, পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল এবং ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের অভিযান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রাথমিক চার থেকে ছয় সপ্তাহের পরিকল্পিত সময়সীমার বাইরে চলে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশল
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বর্তমান পরিকল্পনায় মূলত ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ধ্বংস করা অন্তর্ভুক্ত। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করবে যাতে তারা হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে অবাধ বাণিজ্য পুনরায় নিশ্চিত করে।
এছাড়া, পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করবে যাতে তারা হরমুজ প্রণালির পুনরায় খোলার নেতৃত্ব নেবে। সামরিক বিকল্পও প্রেসিডেন্টের সামনে রয়েছে, তবে আপাতত তা অগ্রাধিকার পাচ্ছে না।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি
গত কয়েক দিনে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর শীর্ষ কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। তারা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিতে সরাসরি অভিযান ঝুঁকিপূর্ণ এবং সময়সীমার বাইরে যুদ্ধের সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। এই কারণেই কূটনৈতিক ও লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক নীতি নেওয়া হচ্ছে।
নিচের টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য পদক্ষেপের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | পদক্ষেপ | লক্ষ্য | সম্ভাব্য ঝুঁকি | সময়সীমা |
|---|---|---|---|---|
| ১ | হরমুজ প্রণালির জোরপূর্বক পুনরায় খোলা এড়িয়ে চলা | ইরানের শক্ত নিয়ন্ত্রণ কমানো ও ঝুঁকি সীমিত রাখা | জলপথ বন্ধ থাকায় বাণিজ্য ব্যাহত হতে পারে | মধ্যমেয়াদি |
| ২ | ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ধ্বংস | সামরিক প্রাধান্য বজায় রাখা | সংঘর্ষ দীর্ঘায়িত হতে পারে | চার-ছয় সপ্তাহ |
| ৩ | কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি | অবাধ বাণিজ্য নিশ্চিত করা | ইরান প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে | চলমান |
| ৪ | মিত্রদের ওপর চাপ প্রয়োগ | হরমুজ পুনরায় খোলার নেতৃত্ব দেওয়া | কূটনৈতিক জটিলতা | দীর্ঘমেয়াদি |
এই কৌশল মূলত যুদ্ধ কমানো, কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্য নিয়েই প্রণয়ন করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
