চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে ৭ জুন ২০২৬ থেকে শুরু হবে। সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন গণমাধ্যমকে পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নিশ্চিত করেছেন। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দেশের লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা রুটিন ও পরীক্ষার তারিখ সংক্রান্ত জল্পনা অবসান পেয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৯ মার্চ (রবিবার) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চলমান পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীর সুবিধা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে করোনা-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করে ৭ জুন থেকে পরীক্ষা শুরুর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একজন বোর্ড চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, “শিক্ষামন্ত্রীর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর খুব দ্রুতই পরীক্ষার চূড়ান্ত রুটিন প্রকাশ করা হবে।”
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এবারই প্রথমবারের মতো দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১১টি বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর আগে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে আলাদা আলাদা প্রশ্নপত্র থাকলেও মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের ব্যবস্থা ছিল।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, সকল বোর্ডে একই প্রশ্নপত্র ব্যবহার করলে পরীক্ষার মান ও মূল্যায়নে সমতা নিশ্চিত হবে। এতে মেধা যাচাই প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে এবং বিভিন্ন বোর্ডের মধ্যে ফলাফলের বৈষম্য কমে আসবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুতি পরিকল্পনা আরও সহজ হবে, কারণ অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষার ফলে সিলেবাস ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করা সম্ভব হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর চলতি সপ্তাহেই পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। শিক্ষার্থীরা সেখানে রুম নম্বর, পরীক্ষা শিফট, বিষয় এবং সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে।
নিচে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|
| পরীক্ষা শুরুর তারিখ | ৭ জুন ২০২৬ | শিক্ষামন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন |
| বোর্ড সংখ্যা | ১১ বোর্ড (৯ সাধারণ, ১ মাদরাসা, ১ কারিগরি) | অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রযোজ্য |
| প্রশ্নপত্রের ধরন | অভিন্ন প্রশ্নপত্র | সকল বোর্ডে সমান |
| রুটিন প্রকাশ | শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট | শীঘ্রই প্রকাশ হবে |
| প্রধান লক্ষ্য | মান ও মূল্যায়নের সমতা | বোর্ডের মধ্যে বৈষম্য দূর করা |
| বৈশিষ্ট্য | ঐতিহাসিক পরিবর্তন | প্রথমবার সাধারণ বোর্ডেও অভিন্ন প্রশ্নপত্র |
এই সিদ্ধান্ত শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনায় নেওয়া হয়েছে যাতে দেশের শিক্ষার্থীরা সমান সুযোগে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে এবং ফলাফলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থায় একটি নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীর মান যাচাই ও শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নেয়ার জন্য অভিন্ন প্রশ্নপত্রের আগের বছরের নমুনা ও বোর্ড ভিত্তিক নির্দেশিকা অনলাইনে অনুসন্ধান করতে পারবেন, যা প্রস্তুতি প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও কার্যকর করবে।
