গণঅভ্যুত্থান হত্যা মামলায় ইউটিউবার ফাহিম কারাগারে

জুলাই গণ–অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর গুলশান এলাকায় এক যুবকের নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ইউটিউবার আর এস ফাহিম চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জানান, এদিন আসামিপক্ষ ফাহিমের জামিনের আবেদন করলেও তারা শুনানির জন্য সময় প্রার্থনা করেন। আদালত সেই প্রেক্ষিতে আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে পরদিন মঙ্গলবার জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন। ফলে মামলার পরবর্তী আইনি অগ্রগতি এখন জামিন শুনানির ওপর নির্ভর করছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, রোববার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরের চিড়িয়াখানা সংলগ্ন এলাকা থেকে একদল শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ ফাহিমকে আটক করেন। পরে তাঁকে শাহ আলী থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ তাঁকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করে, যেখানে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলশানের শাহজাদপুর এলাকায় সুবাস্তু মার্কেটের সামনে হাজারো ছাত্র-জনতা মিছিল করছিলেন। আন্দোলন দমনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির নির্দেশনায় দলীয় নেতা-কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় মো. ইমরান (৩০) নামের এক যুবক কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে মিছিলে সংহতি জানিয়ে স্লোগান দেন। অভিযোগে বলা হয়, এ সময় অজ্ঞাতনামা হামলাকারীদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে দ্রুত গুলশানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার প্রায় নয় মাস পর, ২০২৫ সালের এপ্রিলে গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় একাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ইউটিউবার ফাহিমও রয়েছেন।

নিচে ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

বিষয়তথ্য
ঘটনার তারিখ১৯ জুলাই ২০২৪
স্থানশাহজাদপুর, গুলশান, ঢাকা
নিহত ব্যক্তিমো. ইমরান (৩০)
মামলা দায়েরএপ্রিল ২০২৫
আসামিআর এস ফাহিম চৌধুরীসহ অন্যান্য
গ্রেপ্তারের স্থানমিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকা
আদালতের আদেশকারাগারে প্রেরণ, জামিন শুনানি নির্ধারণ

আইনজীবীরা মনে করছেন, মামলাটির তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে, কারণ এতে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, গণআন্দোলন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা—সবকিছুই জড়িত। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।

এখন সবার দৃষ্টি আদালতে নির্ধারিত জামিন শুনানির দিকে, যেখানে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।