ব্রিটিশ নৌবাহিনীর ‘আন্ডারওয়াটার ড্রোন’ হরমুজে

যুক্তরাজ্য ইরানের হুমকির মোকাবিলায় হরমুজ প্রণালিতে মাইন ধ্বংসের জন্য ‘আন্ডারওয়াটার ড্রোন’ মোতায়েন করতে যাচ্ছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাচ্ছে।

রোববার (২৯ মার্চ) যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হ্যালি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় বড় আকারের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এই জাহাজের মাধ্যমে আন্ডারওয়াটার ড্রোন ও সংশ্লিষ্ট আনুষাঙ্গিক সরঞ্জাম হরমুজ প্রণালিতে পৌঁছে মাইন শনাক্ত ও ধ্বংস করা হবে।

জন হ্যালি জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের দুটি মিত্র দেশ—যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স—ও এই অভিযানে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করছে। হ্যালি বলেন, “আমরা কেবল মাইন সরানোই নয়, বরং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তাও নিশ্চিত করব।”

হরমুজ প্রণালিতে পাঠানো হবে মূলত আরএফএ লিমে বে’ নামের একটি রসদবাহী জাহাজ, যার দৈর্ঘ্য ৫৮০ ফুট। সাধারণত এই জাহাজটি ব্রিটিশ নৌ ও সামরিক বাহিনীর অস্ত্র, যন্ত্রপাতি ও সেনা পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে বর্তমানে এটিকে আন্ডারওয়াটার ড্রোন বহন ও পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

আন্ডারওয়াটার ড্রোনগুলো স্বয়ংক্রিয় ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা পরিচালিত। এগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠ ও তলদেশে মাইন শনাক্ত করতে পারে এবং বিশেষায়িত অস্ত্র দ্বারা মাইন ধ্বংস করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তি হরমুজ প্রণালিতে কার্যকরী নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

উপরন্তু, ব্রিটিশ নৌবাহিনী হরমুজ ও মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যুদ্ধজাহাজ এবং যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল সুরক্ষিত রাখা এবং যে কোনো ধরনের হুমকি প্রতিরোধ করা।

নিচের টেবিলে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাজ্যের মোতায়েনকৃত সামরিক উপকরণ সংক্ষেপে দেওয়া হলো:

সরঞ্জামভূমিকাপ্রযুক্তি / বৈশিষ্ট্য
আরএফএ লিমে বে’রসদবাহী জাহাজ, ড্রোন বহনদৈর্ঘ্য ৫৮০ ফুট, সামরিক ও রসদ বহনযোগ্য
আন্ডারওয়াটার ড্রোনমাইন শনাক্ত ও ধ্বংসস্বয়ংক্রিয়, AI নিয়ন্ত্রিত, উন্নত সেন্সর
যুদ্ধজাহাজনিরাপত্তা ও তল্লাশিমডার্ন অস্ত্র ও রাডার সিস্টেম সহ
যুদ্ধবিমানআকাশসীমা নিরাপত্তাসামরিক গোয়েন্দা ও রাডার সক্ষমতা

এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের অব্যাহত প্রবাহ নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, “হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা রক্ষা করা শুধু আমাদের দেশ নয়, পুরো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অপরিহার্য।”

এই অভিযান চলাকালীন যুক্তরাজ্যের নৌ ও আকাশ বাহিনী ক্রমাগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করবে।