জামালপুরে যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় স্বামী আমিনুল ইসলাম (৩৮)-কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথি ও আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত আমিনুল ইসলাম জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বেনুয়ারচর এলাকার আমজল মিয়ার ছেলে। ২০১৮ সালে তিনি বকশীগঞ্জ উপজেলার সুরুজ মিয়ার মেয়ে সুজানা আক্তারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে যৌতুককে কেন্দ্র করে পারিবারিক অশান্তি ও নির্যাতনের অভিযোগ চলমান ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল ২০ হাজার টাকার যৌতুক দাবিকে কেন্দ্র করে স্বামী আমিনুল ইসলাম তার স্ত্রী সুজানা আক্তারকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। এক পর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় এবং পেটে লাথি মারার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
এই ঘটনার পর নিহতের বাবা সুরুজ মিয়া বাদী হয়ে আমিনুল ইসলামসহ মোট তিনজনকে আসামি করে দেওয়ানগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন হয়। বিচার চলাকালে মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, যৌতুক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি, যা শুধু একটি পরিবার নয় বরং পুরো সমাজব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর শাস্তি অপরিহার্য, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য অপরাধে জড়াতে সাহস না পায়।
ঘটনা, মামলা ও বিচার প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নিচে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযুক্তের নাম | আমিনুল ইসলাম (৩৮) |
| ঠিকানা | বেনুয়ারচর, দেওয়ানগঞ্জ, জামালপুর |
| ভুক্তভোগী | সুজানা আক্তার |
| বিয়ের সাল | ২০১৮ |
| ঘটনার তারিখ | ২৪ এপ্রিল ২০২২ |
| অভিযোগের ধরন | যৌতুক দাবিতে নির্যাতন ও হত্যা |
| সাক্ষীর সংখ্যা | ১৩ জন |
| রায় | মৃত্যুদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা |
| বিচার আদালত | নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–১, জামালপুর |
রায় ঘোষণার পর আইন বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন, এই সিদ্ধান্ত যৌতুক-নির্ভর সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তা বহন করে। তাদের মতে, এ ধরনের রায় সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে নিহতের পরিবার আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার মানসিক কষ্ট ও ক্ষতির কথা তুলে ধরেছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে, এই রায়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে যৌতুক ও পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
সামগ্রিকভাবে এই রায়কে দেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে শক্তিশালী বার্তা প্রদান করবে।
