সৌদি আরবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ রাডার বিমান ধ্বংস হওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক নজরদারি সক্ষমতায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা। এ ধরনের বিমান যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথে আগাম সতর্কতা ও যুদ্ধ পরিচালনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন–এর বিশ্লেষণ করা চিত্রে দেখা গেছে, হামলায় বিধ্বস্ত বিমানটির লেজ সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে এবং এর ওপর স্থাপিত বিশাল গোলাকার রাডার ডোমটি মাটিতে পড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। এই রাডারই মূলত আকাশপথে শত্রু বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন শনাক্ত করে এবং যুদ্ধবিমানকে দিকনির্দেশনা দেয়। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে এই হামলার ঘটনা ঘটে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
সিএনএন–এর সামরিক বিশ্লেষক ও সাবেক মার্কিন কর্নেল সেড্রিক লেইটনের মতে, এ ধরনের একটি এডব্লিউএসিএস (AWACS) বিমান ধ্বংস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে বড় ক্ষতি। তিনি বলেন, “এই প্ল্যাটফর্মটি শুধু নজরদারি নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্রে কমান্ড ও কন্ট্রোল ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে। এটি ছাড়া আকাশযুদ্ধে সমন্বয় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।”
ই-৩ সেন্ট্রি বিমানগুলোর সক্ষমতা অত্যন্ত বিস্তৃত। এগুলো আকাশ থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমাইল এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে পারে এবং শত শত লক্ষ্যবস্তু একসঙ্গে শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে সক্ষম। ফলে শত্রুপক্ষের আক্রমণ আগেভাগে শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বহরে বর্তমানে এ ধরনের প্রায় ১৭টি বিমান রয়েছে, যা তাদের বৈশ্বিক সামরিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নিচের টেবিলে ই-৩ সেন্ট্রি রাডার বিমানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো—
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| বিমান মডেল | ই-৩ সেন্ট্রি (AWACS) |
| প্রধান কাজ | আকাশ নজরদারি ও যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ |
| নজরদারি সক্ষমতা | প্রায় ১,২০,০০০ বর্গমাইল |
| শনাক্তকরণ ক্ষমতা | একাধিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে ট্র্যাক |
| মার্কিন বহরে সংখ্যা | আনুমানিক ১৭টি |
| ব্যবহারের সময়কাল | কয়েক দশক ধরে সক্রিয় |
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সপ্তাহান্তে এই হামলার বিভিন্ন ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর সেগুলো স্যাটেলাইট চিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে সিএনএন নিশ্চিত করেছে যে ঘটনাটি প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতেই ঘটেছে। এর আগে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে সিএনএন জানিয়েছিল, এ হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন, তবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই হামলা শুধু একটি বিমান ধ্বংসের ঘটনা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইরানের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ফাঁক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিকল্প নজরদারি কৌশল বা প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে আরও জোর দিতে হতে পারে।
