পিস্তল ছবি দেখিয়ে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার

বরিশালের বানারীপাড়ায় এক ব্যবসায়ীর কাছে আগ্নেয়াস্ত্রের ছবি পাঠিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদা দাবি করার অভিযোগে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম সাব্বির। তিনি বানারীপাড়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি সদর ইউনিয়নের মাছ রং গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশের ভাষ্যমতে, তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকি দেওয়ার সুস্পষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ঈদের তৃতীয় দিন। ওইদিন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মিরাজের মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। কলের মাধ্যমে নিজেকে পরিচয় দিয়ে সাব্বির ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়, যখন তার হোয়াটসঅ্যাপে একটি পিস্তল ও গুলির ছবি পাঠানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা না দিলে প্রাণনাশ বা বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়।

ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ব্যবসায়ী মিরাজ। পরে তিনি বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করে।

পরবর্তীতে শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাতে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে বানারীপাড়ার নিজ গ্রামের বাড়ি থেকে সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি খেলনা পিস্তল এবং তিনটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। যদিও জব্দ করা পিস্তলটি আসল অস্ত্র নয়, তবুও এটি ভয় দেখানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে তাকে চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার সারসংক্ষেপ

বিষয়তথ্য
অভিযুক্তসাব্বির
সংগঠনের পদসাংগঠনিক সম্পাদক, ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল
অভিযোগব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি ও হুমকি
দাবি করা অর্থ২০,০০০ টাকা
যোগাযোগের মাধ্যমমোবাইল কল ও হোয়াটসঅ্যাপ
ভয় দেখানোর উপকরণপিস্তল ও গুলির ছবি
গ্রেপ্তার স্থানবানারীপাড়া, বরিশাল
উদ্ধার সামগ্রীএকটি খেলনা পিস্তল ও তিনটি কার্তুজ
বর্তমান অবস্থাআদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ

স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে এ ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার অপব্যবহার করে এ ধরনের ভয়ভীতি ও চাঁদাবাজির ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পুলিশ বলছে, এ ধরনের অপরাধ দমনে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্ত করার কার্যক্রম চলমান থাকবে।