গাজীপুরের শ্রীপুরে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ শাহেদা আহমেদের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঢাকার অক্সব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দীর্ঘ কয়েক দিন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করার পর রোববার সকালে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স আনুমানিক ৫০ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে তিনি নিজ গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। গত ২৫ মার্চ সকালে শ্রীপুর উপজেলার বাড়ির রান্নাঘরে রান্নার প্রস্তুতির সময় হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডার থেকে লিকেজ শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই গ্যাস পুরো রান্নাঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের তীব্রতা বেড়ে গেলে তিনি গুরুতরভাবে দগ্ধ হন।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে শ্রীপুরের মাওনা এলাকার একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর শরীরের প্রায় ৫৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি কয়েক দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ছিলেন এবং শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন থাকায় তাঁকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে রোববার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী এবং শিক্ষা অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের ধারণা অনুযায়ী, রান্নার সময় সিলিন্ডারের সংযোগস্থল বা নিয়ন্ত্রক যন্ত্রে ত্রুটির কারণে গ্যাস লিকেজ ঘটে থাকতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার সময়রেখা
| তারিখ ও সময় | ঘটনা |
|---|---|
| ২৫ মার্চ সকাল | শ্রীপুরের নিজ বাড়ির রান্নাঘরে গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডে অধ্যক্ষ শাহেদা আহমেদ দগ্ধ হন |
| ২৫ মার্চ পরবর্তীতে | স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান ও অবস্থার অবনতি |
| ২৫ মার্চ রাত | উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর বার্ন ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর |
| ২৬–২৮ মার্চ | নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসা |
| ২৯ মার্চ সকাল | চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু |
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস সিলিন্ডারজনিত দুর্ঘটনা খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে। রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না থাকলে এবং সরঞ্জামে সামান্য ত্রুটি থাকলেও বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে সিলিন্ডারের ভালভ, পাইপলাইন এবং সংযোগ অংশ নিয়মিত পরীক্ষা না করলে এমন দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রতিটি পরিবারের উচিত নিয়মিত গ্যাস সরঞ্জাম পরীক্ষা করা, অনুমোদিত মানসম্পন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা এবং রান্নাঘরে নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি থাকাও অত্যন্ত জরুরি।
অধ্যক্ষ শাহেদা আহমেদের অকাল মৃত্যু স্থানীয় এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তাঁর সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা তাঁকে একজন নিবেদিতপ্রাণ, দায়িত্বশীল ও মানবিক শিক্ষাবিদ হিসেবে স্মরণ করছেন। এই ঘটনা আবারও গ্যাস নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতার গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এসেছে।
