স্বর্ণের দামে বড় পতন

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও উল্লেখযোগ্য দরপতন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি ভরিতে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। নতুন এই সমন্বয়ের ফলে বাজারে স্বর্ণের সব মানের দামে একযোগে পরিবর্তন এসেছে, যা কার্যকর হয়েছে ঘোষণার দিন সকাল ১০টা থেকে।

২২ ক্যারেট মানের স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। এর আগে এই দাম ছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও যথাক্রমে কমানো হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের দামে পতন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ডলারের মূল্য ওঠানামা এই দরপতনের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। স্থানীয় বাজারে চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতিও মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলছে।

স্বর্ণের নতুন ও আগের দাম (প্রতি ভরি)

স্বর্ণের মাননতুন দাম (টাকা)আগের দাম (টাকা)পরিবর্তন
২২ ক্যারেট২,৩৪,৮৫৫২,৪১,৪৪৫-৬,৫৯০
২১ ক্যারেট২,২৪,১৮২২,৩০,৪৮১-৬,২৯৯
১৮ ক্যারেট১,৯২,১৬৪১,৯৭,৫৩০-৫,৩৬৬
সনাতন পদ্ধতি১,৫৬,৪৭৩১,৬০,৯০৫-৪,৪৩২

এর আগে সর্বশেষ ২৫ মার্চ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, তখনও প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমানো হয়। সে সময় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা।

চলতি বছরে স্বর্ণের বাজারে ধারাবাহিক ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত মোট ৪৭ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৬ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২১ বার দাম হ্রাস পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘন ঘন পরিবর্তন বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে, যা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য পরিকল্পনা করা কঠিন করে তুলছে।

গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজার আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সুদের হার পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবণতা স্বর্ণের দামে সরাসরি প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম কমলেও দেশের রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। রুপার দাম আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে।

রুপার বর্তমান দাম (প্রতি ভরি)

রুপার মানদাম (টাকা)
২২ ক্যারেট৫,৩৬৫
২১ ক্যারেট৫,১৩২
১৮ ক্যারেট৪,৪৩২
সনাতন পদ্ধতি৩,৩২৪

চলতি বছরে রুপার দামে মোট ২৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬ বার বৃদ্ধি এবং ১৩ বার হ্রাস ঘটেছে। যদিও গত বছর রুপার বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল, তবে এ বছর তা কিছুটা বেশি অস্থিরতা প্রদর্শন করছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আন্তর্জাতিক ধাতব বাজারে চলমান অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণ ও রুপার দামে আরও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতারাও বাজার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।