জ্বালানি আমদানি বাড়ল চট্টগ্রামে

চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন করে বড় একটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ ভিড়েছে। আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় চীনের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আমদানি করা এই চালানে মোট ৩০ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল রয়েছে, যা দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো জাহাজটির নাম ‘এমটি গ্রান কুভা’। জাহাজটিতে রয়েছে ১০ হাজার টন ডিজেল এবং ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সূত্র অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আসন্ন মৌসুমি চাহিদা বিবেচনায় রেখে পরিকল্পিতভাবেই এই আমদানি সম্পন্ন করা হয়েছে।

আগামী শুক্রবার থেকে জাহাজটির জ্বালানি খালাস কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বন্দরের নির্ধারিত টার্মিনালে ধাপে ধাপে তেল খালাস করে তা সংরক্ষণাগারে নেওয়া হবে। পরে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে পাঠিয়ে পরিবহন, শিল্প, কৃষি ও বিমান খাতে সরবরাহ করা হবে।

বিপিসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় দুই লাখ টন ডিজেল মজুত রয়েছে। নতুন এই চালান যুক্ত হওয়ায় জাতীয় মজুত আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে ডিজেল সরবরাহ পরিবহন খাত, শিল্প উৎপাদন এবং কৃষি সেচ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে আমদানি করা জেট ফুয়েল দেশের বিমানবন্দরগুলোতে সরবরাহ করা হবে, যা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়তা করবে।

দেশে বর্তমানে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও জেট ফুয়েলসহ মোট পাঁচ ধরনের জ্বালানি তেল আমদানি ও বিতরণ করা হয়। এসব জ্বালানি তেল পাইপলাইন, ডিপো এবং স্থায়ী মজুতাগারে সংরক্ষিত থাকে এবং চাহিদা অনুযায়ী ধাপে ধাপে বাজারে সরবরাহ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ধারণা, চলমান আমদানি প্রক্রিয়া এবং বিদ্যমান মজুত মিলিয়ে আগামী এপ্রিল পর্যন্ত দেশের জ্বালানি চাহিদা স্বাভাবিকভাবে পূরণ করা সম্ভব হবে।

তবে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু চাপও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে লাইটার জাহাজ ও মাছ ধরার ট্রলারের জন্য ডিজেল সরবরাহে রেশনিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে বলে ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি কিছু পেট্রল পাম্পে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি না পাওয়ার ঘটনাও ঘটছে, যা পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে আংশিক প্রভাব ফেলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভরতার কারণে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ ও সমন্বিত করা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদে মজুত সক্ষমতা বাড়ানো, সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করা এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

নতুন এই জাহাজের চালানের সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো—

জ্বালানির ধরনপরিমাণব্যবহার ক্ষেত্র
ডিজেল১০ হাজার টনপরিবহন, শিল্প ও কৃষি
জেট ফুয়েল২০ হাজার টনবিমান পরিবহন
মোট৩০ হাজার টনসমন্বিত জ্বালানি সরবরাহ

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নতুন আমদানি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও স্থিতিশীল করবে এবং দ্রুত সম্প্রসারিত শিল্প ও পরিবহন খাতের চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।