লালবাগে গোপন মাদক আস্তানা উদ্ঘাটন

রাজধানী ঢাকার লালবাগ থানার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের নবাবগঞ্জ লেন এলাকায় একটি গোপন মাদক আস্তানার সন্ধান পাওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলা থেকে বিপুল পরিমাণ বাংলা মদ উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে এক নারী ভাড়াটিয়াকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাসা থেকে মাদক ব্যবসা ও সেবনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সন্দেহ প্রকাশ করার পর বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে তারা লালবাগ থানায় তথ্য প্রদান করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাসাটিতে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে ঘরের ভেতর থেকে দুটি বড় ড্রাম, কয়েকটি প্লাস্টিকের পাত্র এবং পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লিটার বাংলা মদ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত নারী কিছু মাদক বাথরুমে ঢেলে নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং কিছু অংশ দ্রুত সরিয়ে ফেলারও চেষ্টা চালান। তবে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আটক নারী দীর্ঘদিন ধরে ওই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন এবং বাসাটি নিয়মিতভাবে মাদক সেবন ও অবৈধ বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন বয়সের মানুষ, বিশেষ করে তরুণদের যাতায়াত ছিল সেখানে নিয়মিত। এ বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এছাড়া আরও অভিযোগ উঠেছে যে, বাড়ির মালিকপক্ষের কিছু সদস্যের সহযোগিতায় সেখানে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক বাণিজ্য পরিচালিত হয়ে আসছিল। স্থানীয়দের দাবি, বিশেষ করে বাড়িওয়ালার ছেলে সাজ্জাদের সম্পৃক্ততায় ওই স্থানটি মাদক আড্ডা ও বাণিজ্যের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে আটক নারী নিজেকে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বলে দাবি করেন। তিনি জানান, তিনি স্বামীসহ কয়েক মাস ধরে ওই বাসায় বসবাস করছেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, একই ভবনের নিচতলার আরেকটি কক্ষে সাজ্জাদ নামে বাড়িওয়ালার ছেলে মাদক সেবন করতেন এবং তাকে জোরপূর্বক মাদক ব্যবসায় জড়ানোর চেষ্টা করতেন। তিনি আরও দাবি করেন, অর্থসংক্রান্ত বিরোধ এবং প্রায় ৩০ হাজার টাকার হিসাব নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এছাড়া সাজ্জাদ ও তার এক আত্মীয়ের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ২০ হাজার ও পরবর্তীতে আরও ৪ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগও তিনি তোলেন।

অন্যদিকে অভিযুক্ত সাজ্জাদ স্বীকার করেছেন যে তিনি অতীতে মাদক সেবনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ওই ভবনের নিচতলায় বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে আড্ডা হতো। তবে তিনি বর্তমানে কোনো ধরনের মাদক ব্যবসা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রশাসনের নজরদারির বাইরে ছিল, যা এখন বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
স্থাননবাবগঞ্জ লেন, লালবাগ, ঢাকা
অভিযানলালবাগ থানা পুলিশ
উদ্ধারকৃত মাদকপ্রায় ৩–৩.৫ লিটার বাংলা মদ
আটকএক নারী ভাড়াটিয়া
অভিযোগদীর্ঘদিনের মাদক ব্যবসা ও সেবন কেন্দ্র
স্থানীয় দাবিবাড়ির মালিকপক্ষের সম্পৃক্ততার অভিযোগ

লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে মাদকসহ একজন নারীকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের প্রকৃত পরিমাণ আরও বেশি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।