ঈদে নাটকের গান ‘আগুন’ জয় করল দর্শকের মন

২০২৬ সালের ঈদে গানের বাজারে এক অবিস্মরণীয় চমক দেখা দিয়েছে। সাধারণত ঈদ উৎসবে সিনেমার গানই আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। তবে এবার ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে—মুক্তিপ্রাপ্ত অধিকাংশ সিনেমার গান দর্শকের মনে তেমন দাগ রাখতে পারেনি। বিপরীতে, সব আলো কেড়ে নিয়েছে ঈদের বিশেষ নাটক ‘গোলাপি’-এর গান ‘আগুন’, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পরই ঝড় তুলেছে।

‘সিএমভি’ ব্যানারে নির্মিত এই নাটকের গানটি তার সিনেমাটিক ভিডিও, প্রেমময় কথার লেখা, আকর্ষণীয় সুর এবং চোখ ধাঁধানো পারফরমেন্সের কারণে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। নাটকটিতে গানটি প্রেরণার ভরসা হিসেবে কাজ করেছে এবং দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন ইমরান ও কণা। কথার সুরকার রবিউল ইসলাম জীবন, আর সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন ইমরান নিজেই। ভিডিও নির্মাণ করেছেন সৈকত রেজা, যেখানে অভিনয় করেছেন তৌসিফ মাহবুব ও তানজিন তিশা। নাটকটি পরিচালনা করেছেন রুবেল হাসান।

গানের অপ্রত্যাশিত সাফল্যে উচ্ছ্বসিত ইমরান মাহমুদুল বলেন, “আমরা ‘আগুন’ গানটি বিশেষভাবে হিট করার পরিকল্পনা নিয়ে তৈরি করিনি। গল্পের প্রেক্ষাপটে এটি করা হয়েছে। কিন্তু দর্শক যেভাবে গ্রহণ করেছে, তা সত্যিই আশ্চর্যজনক। মনে হচ্ছে গানটি নিজের পথ খুঁজে নিয়েছে।”

প্রযোজক এসকে সাহেদ আলী পাপ্পু বলেন, “ভালো কনটেন্ট থাকলে মাধ্যম কোনো বাধা নয়। আমরা সব সময় মানসম্মত কাজ করতে চেষ্টা করি। ‘আগুন’ সেই ধারাবাহিকতার অংশ। দর্শক এখন প্ল্যাটফর্ম দেখে না, তারা ভালো কনটেন্ট খোঁজে। নাটকের গান হলেও সিনেমার গানকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে এটি।”

এই ঈদে মোট পাঁচটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এগুলোর গান ঈদের আগে প্রকাশিত হলেও দর্শক মন জয় করতে পারেনি। উল্লেখযোগ্য গানগুলো নিম্নরূপ—

সিনেমাগান
প্রিন্সপরী, জ্বালা জ্বালা
দমকোথায় পাব তাহারে, এই মন তোমাকে দিলাম
প্রেশার কুকারবড়াই করে
বনলতা এক্সপ্রেসচাইতেই পারো, উড়াল দেব আকাশে
রাক্ষসশুদ্ধতার প্রেম, তুমি ছাড়া

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নাটকের গান হলেও গুণমানসম্পন্ন কনটেন্ট দর্শকের মন জয় করতে পারে। ‘আগুন’-এর সাফল্য প্রমাণ করে, সৃজনশীলতা এবং ভালো কনটেন্ট যে কোনো মিডিয়াকে অতিক্রম করতে পারে, আর দর্শকরা তা সহজে গ্রহণ করে।

সার্বিকভাবে, ‘গোলাপি’র গান ‘আগুন’ এবারের ঈদে গানের বাজারে একটি নতুন দিক নির্দেশ করেছে—নাটকের গানও চলচ্চিত্রের গানকে ছাড়িয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে। এটি প্রমাণ করে যে উচ্চমানের কনটেন্টই শেষ পর্যন্ত দর্শকের মন জয় করে এবং সৃজনশীলতা যে কোনো প্ল্যাটফর্মে নিজের প্রভাব রাখতে সক্ষম।