ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ২৩ বার হামলা

ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স দাবি করেছে, গত একদিনে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ২৩টি পৃথক হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় তারা প্রচুর পরিমাণে ড্রোন ব্যবহার করেছে। গোষ্ঠীটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব অভিযান মূলত মার্কিন উপস্থিতি ও তাদের সামরিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের সতর্ক করে ইরাক ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইরাকি দূতাবাস জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দেশজুড়ে, বিশেষ করে কুর্দি অঞ্চলে মার্কিন নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্র-সম্পর্কিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। ফলে, মার্কিন নাগরিকদের বাগদাদে অবস্থিত দূতাবাস বা এরবিলে থাকা কনস্যুলেট জেনারেল পরিদর্শন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দূতাবাসের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইরাকের আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রকেট হামলার ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান। এর ফলে ইরাকের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনা করলে, ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই দিন থেকে ইরানও পাল্টা হামলা শুরু করেছে। যুদ্ধের এই ধারা টানা ২৭তম দিনে প্রবেশ করেছে। ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে।

এ পরিস্থিতির পাশাপাশি তেহরান হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনে বিরাট প্রভাব ফেলেছে। সমুদ্রপথটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

নিচের টেবিলটিতে সাম্প্রতিক হামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:

তারিখলক্ষ্যবস্তুহামলার ধরনব্যবহৃত প্রযুক্তিক্ষতি/পরিণতি
২৫ মার্চ ২০২৬মার্কিন ঘাঁটি, বাগদাদ২৩টি পৃথক হামলাড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্রসামরিক অবকাঠামোতে ক্ষতি
২৫ মার্চ ২০২৬এরবিল কনস্যুলেটলক্ষ্যবস্তুতে হামলাড্রোন, রকেটনিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি
২৫ মার্চ ২০২৬কুর্দি অঞ্চলহামলা চালানোক্ষেপণাস্ত্রনাগরিকদের সতর্কতা প্রয়োজন

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সামরিক উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার পরিস্থিতি দিন দিন সংকটজনক হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কমিউনিটি নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় শান্তি প্রত্যাশা করা এখনও কঠিন মনে হচ্ছে।

মোটের উপর, ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একদিনে সংঘটিত এই হামলা শুধু দেশটির নিরাপত্তা নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুতর প্রভাব ফেলেছে।