স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবসের সময়ে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম যেন প্রাণ ফিরে পায়। এই সময় সাবেক জাতীয় ক্রিকেটাররা একত্রিত হয়ে খেলেন পুনর্মিলনী প্রদর্শনী ম্যাচ, যেখানে খেলোয়াড়রা অতীত দিনের স্মৃতিচারণ এবং দর্শকদের আনন্দ দেয়ার পাশাপাশি দেশপ্রেমও উজ্জ্বলভাবে প্রদর্শন করেন। এ বছরও সেই ধারা অব্যাহত থাকল।
আজকের প্রদর্শনী ম্যাচে লাল দল সবুজ দলকে ১২৩ রানে হারিয়ে বিজয় অর্জন করে। ব্যাটিং শুরু করে লাল দল, যেখানে মোহাম্মদ রফিক মাত্র ২৪ বলে ৫০ রান করে ম্যাচের শুরুতেই ঝড় তোলেন। তাঁর সঙ্গে নাসির উদ্দিন ৫৩ বলে ৮৪ রান করে দলের স্কোরকে ৫ উইকেটে ২১৩ রানে উন্নীত করেন। এছাড়া মোহাম্মদ আশরাফুল ২২ বলে ২৫ রান যোগ করে দলকে শক্ত অবস্থানে রাখেন।
সবুজ দলকে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। মাত্র ১৫.২ ওভারে তারা ৯০ রানে অলআউট হয়। সবুজ দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান আসে শাহরিয়ার নাফীস এর ব্যাট থেকে, ১৯ বলে ৩৩ রান। লাল দলের হয়ে জাতীয় দলের সাবেক স্পিনার রফিক ১৮ রানে ৪ উইকেট নেন, আর ইলিয়াস সানি ৫ উইকেট নিয়ে দলের জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
| দল | শীর্ষ ব্যাটসম্যান (রান/বল) | অন্য উল্লেখযোগ্য অবদান | মোট রান | প্রধান উইকেটশিকারি |
|---|---|---|---|---|
| লাল | মোহাম্মদ রফিক ৫০/২৪ | নাসির উদ্দিন ৮৪/৫৩, আশরাফুল ২৫/২২ | ২১৩/৫ | রফিক ৪, ইলিয়াস সানি ৫ |
| সবুজ | শাহরিয়ার নাফীস ৩৩/১৯ | – | ৯০ অলআউট | – |
প্রদর্শনী ম্যাচটি কেবল ক্রিকেট প্রতিযোগিতা নয়, বরং পুনর্মিলনীর আনন্দ ও আবেগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। টসের সময় লাল দলের অধিনায়ক রফিক এবং সবুজ দলের অধিনায়ক আবদুর রাজ্জাককে দেখা যায়। ম্যাচের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং জাতীয় সংগীতের সময় উভয় দলের খেলোয়াড়রা একসাথে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানায়।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে রফিকের ব্যাটিং ছিল নজরকাড়া, যেমন জাতীয় দলে খেলার সময়। আশরাফুলও তার পরিচিত সুইপ শট প্রদর্শন করেন। সবুজ দলের পাশে মাঠের বাইরে ‘শ্যাডো’ করার দায়িত্ব পালন করেন ফারুক আহমেদ, বিসিবির সহসভাপতি ও সাবেক জাতীয় খেলোয়াড়।
ম্যাচের শেষে দুই দলের খেলোয়াড়রা হাত মেলান, দেশের পতাকার ছায়াতলে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন এবং আয়োজকরাও তাদের সঙ্গে এই আনন্দ ভাগাভাগিতে অংশ নেন। সত্যিই, এই পুনর্মিলনী প্রদর্শনী ক্রিকেট খেলার চেয়ে বেশি, এটি জাতীয় ঐক্য ও ক্রিকেটপ্রেমের চিরন্তন উদযাপন।
