থানায় হামলা ও দোকান তালা বিতর্ক

Gaibandha জেলার Palashbari উপজেলায় পৌরসভার একটি দোকানের তালা খোলা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ শেষ পর্যন্ত থানার ভেতরে সহিংস ঘটনায় রূপ নিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্ট যুব নেতাদের একটি দল থানায় প্রবেশ করে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে, এতে ওসিসহ অন্তত আটজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে Palashbari Police Station-এ। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, কালিবাড়ি বাজারে পৌরসভার মালিকানাধীন একটি দোকানের তালা খোলা নিয়ে কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য এক পক্ষ থানায় আসে, যা পরে উত্তেজনায় রূপ নেয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, যুব জামায়াতে ইসলামী Jamaat-e-Islami Bangladesh-এর স্থানীয় নেতা মাহমুদুল হাসান পলাশের নেতৃত্বে একটি দল থানায় প্রবেশ করে। তারা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ার আলমের কাছে দোকানের তালা খুলে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। ওসি বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরবর্তীতে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের দাবি, ওই দল হঠাৎ করেই পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে ওসি সারোয়ার আলম, উপ-পরিদর্শক রুহুল আমিনসহ অন্তত ৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। থানার ভেতরে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়।

পরে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর থানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং আশপাশ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়।

ঘটনার পর এসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, ঘটনার পর Jamaat-e-Islami Bangladesh-এর স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা থানায় গিয়ে বিষয়টি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেন। তারা জানান, অভিযোগের বিষয়ে দলীয়ভাবে তদন্ত করা হবে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে যদি কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আহত ও অভিযুক্তদের সংক্ষিপ্ত তথ্য

ক্রমনাম/পদবিভূমিকাঅবস্থা/অভিযোগ
মাহমুদুল হাসান পলাশযুব নেতা, জামায়াতনেতৃত্ব দিয়ে থানায় প্রবেশের অভিযোগ
সারোয়ার আলমওসিআহত
রুহুল আমিনএসআই, মামলার বাদীআহত
৮ জন নামীয় আসামিবিভিন্ন ব্যক্তিপুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ
অজ্ঞাত কয়েকজনঅশনাক্তঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার অভিযোগ

পুলিশ সুপার পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ, দায়-দায়িত্ব এবং পরিকল্পিত কোনো ভূমিকা ছিল কি না—তা আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করছে পুলিশ প্রশাসন।