দৌলতদিয়ায় ভয়াবহ বাসডুবি, মৃতসংখ্যা বেড়ে ২৩

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে একটি যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৮ জন শিশু এবং ৪ জন পুরুষ। ইতোমধ্যে ২১ জনের মরদেহ পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে, বাকি দুজনের মরদেহ হস্তান্তরের জন্য অপেক্ষমাণ।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিহতদের নাম ও বিস্তারিত তথ্য

নিহতদের বয়স, ঠিকানা এবং লিঙ্গ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

নামবয়সঠিকানা/গ্রামলিঙ্গ
রেহেনা আক্তার৬১রাজবাড়ী পৌরসভা, ভবানীপুর লালমিয়া সড়কনারী
মর্জিনা খাতুন৫৬কুষ্টিয়া পৌরসভা, ১৮ নং ওয়ার্ড, মজমপুরনারী
রাজীব বিশ্বাস২৮কুষ্টিয়া সদর, খাগড়বাড়ীয়াপুরুষ
জহুরা অন্তি২৭রাজবাড়ী পৌরসভা, ৫ নং ওয়ার্ড, সজ্জনকান্দানারী
কাজী সাইফ৩০সজ্জনকান্দা, কাজী মুকুলের ছেলেপুরুষ
মর্জিনা আক্তার৩২গোয়ালন্দ উপজেলা, ছোট ভাকলা ইউনিয়ন, চর বারকিপাড়ানারী
ইস্রাফিলখোকসা উপজেলা, সমাজপুর ইউনিয়ন, ধুশুন্দুশিশু
সাফিয়া আক্তার রিন্থি১২চর বারকিপাড়া, ছোটভাকলা ইউনিয়নশিশু
ফাইজ শাহানূর১১কালুখালী উপজেলা, বোয়ালিয়া ইউনিয়ন, ভবানীপুরশিশু
তাজবিদরাজবাড়ী পৌরসভা, ৫ নং ওয়ার্ড, কেবিএম মুসাব্বিরের ছেলেশিশু
আরমান খান৩১বালিয়াকান্দি উপজেলা, পশ্চিম খালখোলাপুরুষ
নাজমিরা জেসমিন৩০কালুখালী উপজেলা, মহেন্দ্রপুরনারী
লিমা আক্তার২৬মিজানপুর ইউনিয়ন, রামচন্দ্রপুরনারী
জোছনা৩৫বড় চর বেনি নগর, মিজানপুর ইউনিয়ননারী
মুক্তা খানম৩৮গোপালগঞ্জ জেলা, কোটালীপাড়া উপজেলা, আমতলী ইউনিয়ননারী
নাছিমা৪০দিনাজপুর জেলা, পার্বতীপুর উপজেলা, পলাশবাড়ী ইউনিয়ননারী
আয়েশা আক্তার সুমা৩০ঢাকা জেলা, আশুলিয়া উপজেলা, বাগধুনিয়া পালপাড়নারী
সোহা আক্তার১১রাজবাড়ী পৌরসভা, সোহেল মোল্লার মেয়েশিশু
আয়েশা সিদ্দিকা১৩খোকসা উপজেলা, সমসপুর ইউনিয়নশিশু
আরমান৭ মাসঝিনাইদহ জেলা, শৈলকূপা উপজেলা, কাচেরকোলশিশু
আব্দুর রহমানকালুখালী উপজেলা, মহেন্দ্রপুরশিশু
সাবিত হাসানদাদশী ইউনিয়ন, আগমারাইশিশু
আহনাফ তাহমিদ খান২৫রাজবাড়ী পৌরসভা, ভবানীপুর লালমিয়া সড়কপুরুষ

দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

ঘটনাটি ঘটে বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে, যখন কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩নং পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসডুবির সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ তৎপর হয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে।

ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমান জানান, “এ পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ২১ জনের মরদেহ পরিবারের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দুজনের মরদেহও পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য অপেক্ষা করছে।”

স্থানীয়রা জানান, নদীর প্রবাহ প্রবল থাকার কারণে উদ্ধারকাজে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রশাসন নিহতদের পরিবারের জন্য জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা করেছে এবং মানসিক সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে।

প্রভাব এবং সতর্কতা

এ ধরনের দুর্ঘটনা নদীতে যাত্রী পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ও জেলা প্রশাসন এখন থেকে ফেরি চলাচলে সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

নিহতদের বয়স ও লিঙ্গ অনুযায়ী এটি রাজবাড়ী জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বাসডুবি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রশাসন, পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা একযোগে কাজ করে দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান ও মৃতদেহ হস্তান্তর নিশ্চিত করেছে।