ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে বৃষ্টির পানিতে থাকা বৈদ্যুতিক সংযোগের কারণে এক কুকুর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। এ ঘটনা ঘটে বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে নয়টায় মল চত্বর ও সুর্যসেন হল গেইট এলাকায় জমে থাকা বৃষ্টির পানির মধ্যে। শিক্ষার্থীরা এই পরিস্থিতিকে গুরুতর নিরাপত্তা সংকেত হিসেবে দেখছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ২২-২৩ শিক্ষার্থী ইসরাফিল আলম জানান, হঠাৎ কুকুরের চিৎকার শুনে তিনি পেছনে তাকালে দেখেন কুকুরটি কাঁপছে এবং মুহূর্তের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে। রাস্তার ওপর জমে থাকা পানির মধ্যে থাকা বৈদ্যুতিক পিলার থেকে শক খেয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অংশে ছোট ছোট ল্যাম্পপোস্টগুলো চুরি হয়ে গেছে এবং বৈদ্যুতিক তারগুলো উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কেবল কসটেপ দিয়ে দায়সারাভাবে পেঁচানো হয়েছে, যা যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।”
অন্য শিক্ষার্থী শিলা খাতুন অভিযোগ করেন, “কুকুর মারা গেছে, প্রশাসনের পদক্ষেপ সীমিত। যদি মানুষ মারা যেত, হয়তো তারা পদক্ষেপ নিত। দেখা যাক প্রশাসন মানুষ মরার অপেক্ষা করবে নাকি দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকৌশলী অফিসের তত্ত্বাবধায়ক লুৎফর রহমান জানান, “ঘটনাটি জানার পর সাথে সাথেই আমরা সেখানে লোক পাঠিয়েছি। তারা বিষয়টি রিকভার করছে। এছাড়া ক্যাম্পাসের সব স্থানে বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো নিরাপদ করার জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
উল্লেখযোগ্য, ঢাবি ক্যাম্পাসে বৃষ্টির পানিতে বৈদ্যুতিক সংযোগের সমস্যা দীর্ঘদিনের। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চুরি হওয়া ল্যাম্পপোস্ট এবং উন্মুক্ত বৈদ্যুতিক তারগুলো পায়ে হেঁটে চলাচলকারীদের জন্যও বিপজ্জনক।
নিচে দুর্ঘটনার প্রাথমিক তথ্য টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা সময় | ২৫ মার্চ ২০২৬, রাত ৯:৩০ মিনিট |
| ঘটনা স্থান | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মল চত্বর ও সুর্যসেন হল গেইট |
| প্রাণহানি | একটি কুকুর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু |
| কারণ | বৃষ্টির পানিতে বৈদ্যুতিক সংযোগ, উন্মুক্ত বৈদ্যুতিক তার |
| প্রত্যক্ষদর্শী | ইসরাফিল আলম, শিলা খাতুন সহ শিক্ষার্থীরা |
| প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া | প্রকৌশলী লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, দ্রুত রিকোভারি ও পরীক্ষা চলছে |
| ঝুঁকি | পথচারী ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি, দীর্ঘকালীন অবহেলা |
| সম্ভাব্য পদক্ষেপ | ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থায়ীভাবে মেরামত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঢাবি ক্যাম্পাসে বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুত সংযোগ মানুষের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে বৈদ্যুতিক লাইন পুনর্বিন্যাস, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কতামূলক সাইন ও ব্যারিকেড স্থাপন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।
এই দুর্ঘটনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের অবহেলার প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চাচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে না পারে। প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ক্যাম্পাসের সকল শিক্ষার্থী ও স্থায়ী বাসিন্দারা নিরাপদে চলাচল করতে পারেন।
মোট কথা, এই দুর্ঘটনা শুধুমাত্র প্রাণহানি নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ ও পানি সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি সম্পর্কে একটি বড় সতর্কবার্তা।
