চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৪ দিনে দেশের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, এ সময়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩০৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ১২ কোটি ৭১ লাখ ডলার সমান। দেশের মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৭ হাজার ২১০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, গত বছরের একই সময়ে দেশে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স ছিল ২৭৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার, ফলে বছরের ব্যবধানে প্রবাসী পাঠানো অর্থের পরিমাণে প্রায় ৩০ কোটি ডলারের উত্থান ঘটেছে। এটি প্রমাণ করে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২,৫৫০ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ২০.১০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা, প্রবাসীদের আয়ের বৃদ্ধিসহ সরকারের আধুনিক অনলাইন রেমিট্যান্স সুবিধা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ফল।
মাস ভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ডিসেম্বর ছিল সর্বোচ্চ মাস, যখন দেশে এসেছে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, যা একক মাস হিসেবে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। জানুয়ারিয়ে এসেছে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ফেব্রুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
আগের মাসগুলোতেও প্রবাহ উল্লেখযোগ্য। নভেম্বরে এসেছে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার এবং জুলাইতে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
ফলে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩০.৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩,০৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার), যা দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আয় হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
নিচে চলতি অর্থবছরের মাস ভিত্তিক রেমিট্যান্স সংক্ষেপে টেবিল আকারে তুলে ধরা হলো—
| মাস | রেমিট্যান্স (মিলিয়ন মার্কিন ডলার) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| জুলাই | ২৪৭.৮০ | চলতি অর্থবছরের শুরু |
| আগস্ট | ২৪২.১৮ | সামান্য কম প্রবাহ |
| সেপ্টেম্বর | ২৬৮.৫৯ | প্রবাসীদের পাঠানো বৃদ্ধি |
| অক্টোবর | ২৫৬.৩৫ | স্থিতিশীল প্রবাহ |
| নভেম্বর | ২৮৮.৯৫ | ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা |
| ডিসেম্বর | ৩২২.৬৭ | চলতি অর্থবছরের সর্বোচ্চ মাস |
| জানুয়ারি | ৩১৭.৯৪ | ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ একক মাস |
| ফেব্রুয়ারি | ৩০২.৭৬ | ধারাবাহিক প্রবাহ |
| মার্চ (২৪ দিন) | ৩০৫.০০ | দৈনিক গড়ে ১২.৭১ মিলিয়ন ডলার |
এই রেকর্ড সংখ্যাগুলো প্রমাণ করে, প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এবং দৈনন্দিন পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক। প্রবাসীরা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অব্যাহতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
