সরকার জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত এখন পর্যাপ্ত অবস্থানে রয়েছে এবং তা আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা চলছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, আগে সাধারণত দেশের তেলের মজুত ১৫ দিনের মতো থাকত, কিন্তু বর্তমানে এটি প্রায় এক মাসের সমপরিমাণ। তিনি আরও জানান, সরকারের লক্ষ্য এই মজুত আরও বাড়ানো।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করেন নাসিমুল গনি। যদিও তেলের মজুত বিষয়টি মূল বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল না, তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান যে সকালে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী বৈঠকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তদারকি করেছেন
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী সরকারী ক্ষমতা অনুযায়ী সমস্ত তথ্য যাচাই করেছেন। তিনি দেখেছেন কীভাবে মন্ত্রণালয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে, কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি কেমন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার সক্ষমতা ও কার্যক্রমের অবস্থা পর্যালোচনা করেছেন।”
সচিব আরও বলেন, “আগে সাধারণভাবে ১৫ দিনের মজুত থাকত। এখন এটি সাফিশিয়েন্ট এবং প্রায় এক মাসের সমপরিমাণ রয়েছে। পরিকল্পনা রয়েছে, খুব শিগগিরই মজুত আরও বাড়ানো হবে।”
জনসাধারণের মধ্যে তেল সংক্রান্ত আতঙ্ক বিষয়ে তিনি বলেন, মানুষের আস্থা ফিরলেই ক্রয়াভাব স্বাভাবিক হবে এবং মজুত যথেষ্ট থাকার কারণে তেলের ঘাটতি হবে না। তেলের দাম বৃদ্ধির গুজব প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য পাননি এবং এর কোনো লক্ষণও নেই।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত আইন খসড়া
আজকের বৈঠকে মন্ত্রিসভা পাঁচটি আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। এই আইনগুলো মূলত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী আইনে পরিণত করার উদ্দেশ্যে অনুমোদিত। অনুমোদিত আইনগুলো নিম্নরূপ:
| আইন খসড়ার নাম | সংক্ষিপ্ত বিবরণ |
|---|---|
| মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) আইন | কর ব্যবস্থার সংশোধনী |
| অর্থ আইন (২০২৫-২৬ অর্থবছর) | নতুন বাজেট ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা |
| অর্থসংক্রান্ত কতিপয় (সংশোধন) (২০২৫-২৬ অর্থবছর) আইন | অর্থনৈতিক বিধান সংশোধন |
| দ্য এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট (সংশোধন) অ্যাক্ট | এক্সাইজ ও লবণের কর সংশোধন |
| অর্থসংক্রান্ত কতিপয় (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন | অতিরিক্ত অর্থনৈতিক বিধান সংশোধন |
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সরকার জনগণের উদ্বেগ কমাতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর। মজুত বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্থিতিশীলতা বজায় রাখা হচ্ছে।
এই তথ্যাবলী ও পরিকল্পনাগুলি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জনগণের বিশ্বাস স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
