১০০০ গোল স্পর্শ করতে মেসিকে কত সময় লাগবে?

ফুটবল বিশ্বের দুই কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে এক অলিখিত প্রতিযোগিতা চলছে—কার ক্যারিয়ারে প্রথম ১,০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ হবে। ভক্তরা প্রতিদিন লক্ষ্য করছেন, দুই তারকার গোলের সংখ্যা আর কত দ্রুত হাজারে পৌঁছাবে।

বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রোনালদো এই দৌড়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছেন। ১,৩১২টি ম্যাচে তার মোট গোলসংখ্যা ৯৬৫। সুতরাং, ১,০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন মাত্র ৩৫টি গোল। অন্যদিকে, মেসি ১,১৪৩টি ম্যাচে ৯০১টি গোল করেছেন এবং তার জন্য বাকি ৯৯টি গোল দরকার।

বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, রোনালদো যদি গতকালের গড় অনুযায়ী খেলে যান—প্রতি বছর প্রায় ৪০টি গোল—তাহলে ২০২৬ সালের শেষ বা ২০২৭ সালের শুরুতে তিনি ১,০০০তম গোল স্পর্শ করতে পারেন। তবে ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর ফিটনেস এবং খেলার ধারাবাহিকতা এই পূর্বাভাসে প্রভাব ফেলতে পারে।

মেসি ৩৮ বছর বয়সী হওয়ায় তুলনামূলকভাবে একটু সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন। তার ক্যারিয়ারের ম্যাচপ্রতি গড় গোল ০.৭৯। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এমএলএস ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে এই গড় ০.৮০। যদি মেসি এমন ফর্ম ধরে রাখতে পারেন এবং বছরে গড়ে ৫০টি ম্যাচ খেলেন, তাহলে প্রতি মৌসুমে তিনি আনুমানিক ৪০টি গোল যোগ করতে সক্ষম হবেন। এই হিসাব অনুযায়ী, মেসির ১,০০০তম গোল দেখা পেতে প্রায় আড়াই বছর সময় লাগবে। অর্থাৎ, ২০২৮ সালের শেষ বা ২০২৯ সালের শুরুতে তিনি এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদযাপন করতে পারবেন।

মেসির ক্লাব ও দেশের গোলের বিস্তারিত তথ্য নিচের টেবিলে দেখানো হলো:

ক্লাব / দেশম্যাচ সংখ্যাগোলম্যাচপ্রতি গড় গোল
বার্সেলোনা৭৭৮৬৭২০.৮৬
আর্জেন্টিনা জাতীয় দল১৯৬১১৫০.৫৮
পিএসজি৭৫৩২০.৪৩
ইন্টার মায়ামি৯৪৮২০.৮৭

বার্সেলোনায় মেসির সোনালি সময়ে গোলসংখ্যা সবচেয়ে বেশি। যদিও পিএসজি-তে তার গোলের গড় কম, তবে ইন্টার মায়ামিতে তার বর্তমান ফর্ম অত্যন্ত শক্তিশালী। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা মোটেও অবাস্তব নয়।

ফুটবলপ্রেমীরা এখন কেবল গোনা-গোনা খেলায় মজা পাচ্ছেন। তবে মাইলফলকটি স্পর্শ করতে মেসি ও রোনালদোর উপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করছে তাদের শারীরিক ফিটনেস এবং বর্তমান ফর্ম। যদি মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপে অতিমানবীয় পারফরম্যান্স দেখান এবং খেলার সময় আরও বাড়ান, তবে এই লক্ষ্য আরও আগে অর্জিত হতে পারে। তবে বর্তমানে, মাইলফলকটি ছোঁয়া ধীরে হলেও নিশ্চিতভাবে আসছে—ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়ের পথে।