নাটোরে পিতাকে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগে ছেলে অপুকে (২২)কে ডিবি ও থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার হাসিমপুর গ্রামে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোররাতে মহরম আলী (৫৫) নিজ বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় ছেলে অপু কর্তৃক ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরিবারের আলাদা থাকার কারণে তিনি একাই বাস করছিলেন। আহত অবস্থায় মহরম আলীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
নিহত মহরম আলী দীর্ঘদিন ধরে কাফুরিয়া বাজারে চটপটি বিক্রেতা হিসেবে ব্যবসা করে আসছিলেন। তিনি ওই এলাকার মৃত মোহর আলীর ছেলে। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, পারিবারিক কলহের কারণে মহরম আলীর স্ত্রী ও সন্তানরা আলাদা বসবাস করতেন।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, নিহতের মাথা ও মুখমণ্ডলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। অভিযুক্ত অপুকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নিম্নের টেবিলে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| তথ্যের ধরন | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | হাসিমপুর গ্রাম, সদর উপজেলা, নাটোর |
| ঘটনার সময় | ২৫ মার্চ, ভোররাতে |
| নিহত | মহরম আলী, বয়স ৫৫, পেশা চটপটি বিক্রেতা |
| অভিযুক্ত | ছেলে অপু, বয়স ২২ |
| গ্রেপ্তার সময় | মঙ্গলবার রাত |
| ঘটনার কারণ | পারিবারিক কলহ (প্রাথমিক অভিযোগ) |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | ধারালো অস্ত্র (গ্রেপ্তারের পর উদ্ধার) |
| আদালতের ব্যবস্থা | অভিযুক্ত জেলহাজতে প্রেরণ |
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, পারিবারিক সংঘর্ষের কারণে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। পাশের প্রতিবেশী সুফিয়া বেগম জানান, “তিনি একাই বাস করতেন এবং পারিবারিক কলহ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। এমন ঘটনা আশা করা যায়নি।”
পুলিশ জানাচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কারো জড়িত থাকার সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক ধারা অনুযায়ী, এটি পারিবারিক কলহের প্রেক্ষিতে ঘটে।
নাটোরে এই ধরণের পারিবারিক হত্যার ঘটনা সমাজে শোকের ছাপ ফেলে, যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ও পিতার মধ্যে পারিবারিক কলহের পরিণতি শঙ্কাজনক মাত্রা পৌঁছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্পূর্ণ তদন্ত চালানো হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
