জেনারেল মাসুদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার আবেদন

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে প্রায় ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। এ ঘটনায় দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দমন প্রক্রিয়ায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এ আবেদন দাখিল করেন। ভারপ্রাপ্ত বিচারক মঈনউদ্দীন চৌধুরী বিষয়টি আমলে নিয়ে আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করেন। দুদকের অপর এক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আলোচিত হয়ে ওঠা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বর্তমানে ‘ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হলেও প্রকৃতপক্ষে বহু ক্ষেত্রে কর্মীদের পাঠানো হয়নি বা প্রতিশ্রুত সুবিধা দেওয়া হয়নি। এর ফলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

গত ১১ মার্চ দুদক মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করে। তদন্তে অনিয়ম, প্রতারণা এবং মানব পাচারের উপাদানও পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে, গত সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরদিন মঙ্গলবার তাকে পল্টন থানায় দায়ের করা মানব পাচার সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে আদালতে হাজির করলে পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

ডিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১১টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব মামলার মধ্যে মানব পাচার, প্রতারণা এবং অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

নিচে মামলার প্রধান তথ্যসমূহ সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়বিবরণ
আসামির নামমাসুদ উদ্দিন চৌধুরী
পদবিলেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.), সাবেক এমপি (ফেনী-৩)
অভিযোগ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, মানব পাচার
মামলা দায়ের১১ মার্চ
গ্রেফতারবারিধারা ডিওএইচএস থেকে
রিমান্ড৫ দিন
মোট মামলা১১টি
পরবর্তী শুনানি৯ এপ্রিল

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মামলার মাধ্যমে দেশের রিক্রুটিং খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশগামী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে সামনে এসেছে।