শাহ আমানতে ২৪ দিনে ১৭৪ ফ্লাইট বাতিল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ২৪ দিনে মোট ১৭৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যার ফলে বিমানবন্দরটি মধ্যপ্রাচ্য রুটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৭–৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। সর্বশেষ সোমবার মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি ফ্লাইট বাতিল হয়। তবে ওই দিন মোট ১১টি ফ্লাইট সচল ছিল। এর মধ্যে ছয়টি ফ্লাইট ছিল আগত (অ্যারাইভাল) এবং পাঁচটি ফ্লাইট ছিল প্রস্থানকারী (ডিপার্চার)।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানিয়েছেন, “বিভিন্ন এয়ারলাইনসের শারজাহ, দুবাই ও আবুধাবি রুটের ফ্লাইট স্থবির রয়েছে। প্রতিদিন বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা তিনটি অ্যারাইভাল ফ্লাইট, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুইটি মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট এবং এয়ার আরাবিয়ার একটি অ্যারাইভাল ও একটি ডিপার্চার ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সালাম এয়ার, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের শারজাহ, দুবাই ও আবুধাবি রুটের চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলোও স্থবির রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীরা দেশে ফিরতে পারছেন না, তেমনি দেশের যাত্রীরা বিদেশে যেতে পারছেন না।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাতিল ফ্লাইট ও সচল ফ্লাইটের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

এয়ারলাইনসবাতিল ফ্লাইট (২৪ দিনে)সচল ফ্লাইটমন্তব্য
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স৩২মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ফ্লাইট বাতিলের প্রভাব সবচেয়ে বেশি
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস২৭মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বন্ধ, দেশে ফেরা প্রবাসীর সংখ্যা প্রভাবিত
এয়ার আরাবিয়া২৯অ্যারাইভাল ও ডিপার্চার উভয় ফ্লাইট বাতিল
সালাম এয়ার২৪আবুধাবি ও দুবাই রুট স্থবির
অন্যান্য৬২অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্য রুটের ফ্লাইট স্থবির

মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারফিল্ড বন্ধ হওয়ার প্রেক্ষিতে বিমান বাংলাদেশ, ইউএস-বাংলা, এয়ার আরাবিয়া এবং সালাম এয়ারের ফ্লাইট চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে দীর্ঘ সময়ের জন্য যাত্রীরা বিমানবন্দরে আটকে রয়েছেন। আগাম টিকিট করে রাখা বিদেশগামী ও দেশে ফেরা প্রবাসীরা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এই ধরনের স্থবিরতা আন্তর্জাতিক যাত্রাব্যবস্থায় সাময়িক হলেও বিশাল প্রভাব ফেলে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যাত্রীদের ধৈর্য ধারণ করা ছাড়া বিকল্প উপায় নেই।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এই স্থবিরতা প্রবাসী ও দেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও এয়ারলাইনসগুলো ক্রমাগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফ্লাইটগুলো দ্রুত সচল করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।