ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক নেতা রুমিন ফারহানা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সম্প্রতি বিজয়নগরের ইসলামপুরে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, দেশে বর্তমানে “মামলা বাণিজ্য” ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাধারণ মানুষের বিচারব্যবস্থায় আস্থাকে ক্ষুণ্ণ করছে।
রুমিন ফারহানা বলেন, “একই মামলায় শতাধিক মানুষকে আসামি করা হচ্ছে। মিথ্যা মামলা দেওয়ার পাশাপাশি নাম বাদ দেওয়ার জন্যও অর্থের লেনদেন হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য।” তিনি আরও বলেন, যারা সত্যিই অপরাধ করেছেন, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে, তবে নিরপরাধ মানুষ যেন কোনোভাবেই মামলা-মোকদ্দমার শিকার না হন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “এলাকায় মামলা বাণিজ্য চলতে দেওয়া হবে না। পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করতে হবে এবং মিথ্যা মামলা যাতে কেউ ব্যবহার করতে না পারে, তা কঠোরভাবে রোধ করতে হবে।”
রুমিন ফারহানা শো-অ্যারেস্ট বা প্রদর্শনীমূলক গ্রেপ্তারের প্রবণতাকেও উদ্বেগজনক উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “জামিন পাওয়ার পরও মানুষকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। এটি বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার জন্য হুমকি। আজ আমি ক্ষমতায় থাকলে শোধ নিলাম, কাল অন্যরা এসে শোধ নেবে—এই চক্র বন্ধ করতে হবে। প্রতিশোধের এই চক্র শেষ না করা পর্যন্ত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না।”
তিনি আরও বলেন, অপরাধীদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে, তবে নিরপরাধদের হয়রানির শিকার হওয়া প্রতিরোধ করা হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মিথ্যা মামলা এবং শো-অ্যারেস্টের বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত মূল প্রবণতাগুলো নিম্নরূপ:
| বিষয় | ঘটনা/প্রবণতা | প্রভাব |
|---|---|---|
| মিথ্যা মামলা | ব্যক্তিগত শত্রুতা বা প্রতিশোধের জন্য মামলা | নিরপরাধ মানুষ হয়রানি হয় |
| একাধিক আসামি | একই মামলায় শতাধিক মানুষ অন্তর্ভুক্ত | আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয় |
| শো-অ্যারেস্ট | জামিন পাওয়ার পরও নতুন মামলায় গ্রেপ্তার | সামাজিক আতঙ্ক ও ন্যায়বিচার ক্ষয় হয় |
| মামলা বাতিল/নাম বাদ | টাকা দিলে মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়া | দুর্নীতি ও অবিচারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় |
রুমিন ফারহানা আশা প্রকাশ করেছেন, সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, যাতে মিথ্যা মামলা ও প্রতিশোধমূলক মামলা বন্ধ হয় এবং জনগণের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। তার এই বক্তব্য দেশের বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং নিরপরাধদের সুরক্ষার গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এই আলোচনার মাধ্যমে তিনি সরকারের কাছে একটি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন: বিচারব্যবস্থা কখনোই ব্যক্তিগত স্বার্থ বা প্রতিশোধের খেলার পুতুল হতে পারে না, এবং আইন প্রয়োগকারীদের দায়িত্ব হলো সত্য ও ন্যায়পরায়ণতার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকা।
