রাজধানীর বনানী ১১ নম্বর রোডের একটি নয়তলা ভবনে সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে অংশ নেন বনানী থানার পুলিশ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যৌথ টিম। অভিযান মূলত অনুমোদনবিহীন সিসা বার ও লাউঞ্জ খুঁজে বের করা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই করার উদ্দেশ্যে করা হয়।
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ খালিদ মনসুর বলেন, “আমরা অভিযানে গিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানে কোনো সিসা পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অভিযান চলমান থাকবে। বনানী এলাকায় এখনও কিছু অননুমোদিত সিসা সেবনের স্থান সচল আছে, যা সরকারি অনুমোদনবিহীন।”
অভিযান সূত্রে জানা যায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অননুমোদিত সিসা বার ও লাউঞ্জ খোলা রয়েছে। এসব স্থানে নিয়মিত সিসা পরিবেশন করা হয়, যদিও কোনো সরকারি লাইসেন্স নেই। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব স্থানে অভিযান ত্বরান্বিত করেছে।
এর আগে, গত ৩ মার্চ হাইকোর্ট গুলশান-বনানীর অনুমোদনবিহীন সিসা এবং সিসা লাউঞ্জ বন্ধে নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। হাইকোর্টের বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টরা তা বাস্তবায়ন করছেন।
পুলিশ অভিযান সংক্রান্ত তথ্য নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| তারিখ | এলাকা | ভবনের তলা / লাউঞ্জ | অভিযানের মন্তব্য | ফলাফল |
|---|---|---|---|---|
| ২৩ মার্চ ২০২৬ | বনানী, ১১ নম্বর রোড | ৯ তলা | অভিযান হয়েছে, কোনো সিসা পাওয়া যায়নি | পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, অভিযান চলমান |
| ৩ মার্চ ২০২৬ | গুলশান-বনানী | বিভিন্ন লাউঞ্জ | হাইকোর্ট নির্দেশ বাস্তবায়ন | অননুমোদিত সিসা লাউঞ্জ বন্ধ নির্দেশিত |
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অনুমোদনবিহীন সিসা সেবন বন্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। এছাড়া জনসাধারণকে সচেতন করার মাধ্যমে অননুমোদিত স্থানে সিসা সেবনের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
অভিযান চলাকালীন এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা বাড়ানো হয়েছে। বনানী থানার ওসি মুহাম্মদ খালিদ মনসুর আশ্বস্ত করেছেন, “অননুমোদিত সিসা বারগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। নগরীর মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বিনোদন উপভোগ করতে পারবেন।”
বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যাচ্ছে, পুলিশ ও হাইকোর্টের নির্দেশনার সমন্বয় নগরীতে অনুমোদনবিহীন সিসা সেবন কমানোর প্রধান মাধ্যম। নিয়মিত অভিযান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে পারে।
