দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে দমকা হাওয়া, ঝড়ো বাতাস ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা সর্বশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বিকেল থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, এসব এলাকার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বজ্রপাতসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও জনজীবনে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর পুনঃ ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে। এই সংকেতের অর্থ হলো, ঝড়টি তীব্র না হলেও মাঝারি ধরনের দমকা হাওয়া ও বজ্রঝড়ের কারণে নৌযান চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।
সম্ভাব্য প্রভাবিত অঞ্চল ও আবহাওয়ার বিবরণ
| অঞ্চল | সম্ভাব্য বাতাসের বেগ | আবহাওয়ার ধরন | সতর্ক সংকেত |
|---|---|---|---|
| রংপুর | ৪৫–৬০ কিমি/ঘণ্টা | দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি | ১ নম্বর |
| দিনাজপুর | ৪৫–৬০ কিমি/ঘণ্টা | ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি | ১ নম্বর |
| ময়মনসিংহ | ৪৫–৬০ কিমি/ঘণ্টা | দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি/বজ্রপাত | ১ নম্বর |
এদিকে সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। পাশাপাশি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় রয়েছে। এই দুই প্রভাবের কারণে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকাশ মেঘলা হয়ে ওঠা এবং অস্থায়ী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানো এবং বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে। সেখানে আংশিক মেঘলা আকাশ দেখা গেলেও সার্বিকভাবে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে।
তাপমাত্রার দিক থেকে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে দিনের বেলায় গরম কিছুটা বাড়লেও সন্ধ্যার পর ঝড়-বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সময়টিতে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় নৌযান, কৃষিকাজ এবং খোলা স্থানে অবস্থানরত মানুষের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে নির্দেশনা মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
