নিখোঁজের মাত্র একদিন পর পুকুরে উদ্ধার যুবকের মরদেহ

মাদারীপুরে নিখোঁজের একদিন পর জেলা খাদ্য অফিসের পুকুর থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়দের চোখে পড়ে রাজিন ইয়াসার সামিরের (২২) লাশ। তিনি শহরের পাঠককান্দি এলাকার এনায়েত হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও পরিবারের বরাতে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে সামি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তার আর কোনও খোঁজ পাননি স্বজনরা। উদ্বিগ্ন হয়ে তার পরিবারের সদস্যরা মাদারীপুর সদর মডেল থানায় নিখোঁজ জিডি করেন।

সোমবার সন্ধ্যার দিকে খবর পাওয়া যায় যে, মঙ্গলবার সকালে জেলা খাদ্য অফিসের পুকুরে সামিরের লাশ ভাসতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা লাশটি উদ্ধার করে মাদকনাশক মর্গে পাঠান। মৃতদেহ মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “নিহত রাজিন ইয়াসার সামি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় অসাবধানবশত পানিতে পড়ে গিয়ে তিনি আর নিজে উঠতে পারেননি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, সামির প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিক চলাফেরায় ছিল। ঘটনার দিন তিনি পুকুরপাড়ে গিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বলেন, সামিরকে শান্তিপ্রিয় এবং সহমর্মী ছেলে হিসেবে সবাই চিনত।

নিচের টেবিলে ঘটনার সময়সীমা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

ক্রমিকবিষয়বিস্তারিত তথ্য
নিখোঁজ হওয়ার সময়২৩ মার্চ, সোমবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হন
লাশ উদ্ধার২৪ মার্চ, মঙ্গলবার সকাল ৯টা, জেলা খাদ্য অফিসের পুকুর
বয়স২২ বছর
স্থায়ী ঠিকানাপাঠককান্দি এলাকা, মাদারীপুর শহর
পুলিশ অভিযোগনিখোঁজ জিডি, সদর মডেল থানা
ময়নাতদন্তের স্থানমাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গ
প্রাথমিক ধারণাপুকুরে পড়ে মৃত্যু, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, সামিরের অকাল মৃত্যু পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে এখনো ধীরশ্বাস ও দুঃখের প্রকাশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এই ঘটনায় মাদারীপুর শহরে সতর্কতা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বা অসতর্কতার কারণে এমন দুঃখজনক ঘটনা আর না ঘটে।