আইপিএলে নারাইনের ঐতিহাসিক দ্বারপ্রান্তে

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) নতুন এক ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার সুনীল নারাইন। আর মাত্র ৮টি উইকেট পেলেই তিনি ছুঁয়ে ফেলবেন ২০০ উইকেটের মাইলফলক—যা তাঁকে আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম বিদেশি বোলার হিসেবে এই অর্জনের অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।

এক যুগ আগে গায়ানা থেকে আগত ‘মিস্ট্রি স্পিনার’ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন নারাইন। ২০১২ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের জার্সিতে অভিষেকেই ২৪ উইকেট নিয়ে দলকে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সেই শুরু, এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল যুগে যেখানে খেলোয়াড়দের দলবদল প্রায় নিয়মিত ঘটনা, সেখানে টানা ১৫ মৌসুম ধরে একই দলের হয়ে খেলে যাওয়ার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

কলকাতা নাইট রাইডার্সের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও নারাইনের দখলে। এখন পর্যন্ত তিনি ১৮৯টি ম্যাচ খেলেছেন, যা দলের অন্য কোনো খেলোয়াড় স্পর্শ করতে পারেননি। বল হাতে তাঁর ১৯২টি উইকেট—এটিও ক্লাব ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এক ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি আছে একবার, আর ৪ উইকেট নিয়েছেন সাতবার।

তবে নারাইন শুধু বোলার নন; ব্যাট হাতেও তিনি প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠেছেন বহুবার। ১২২ ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ১,৭৮০ রান, যেখানে রয়েছে একটি সেঞ্চুরি ও সাতটি অর্ধশতক। ওপেনার হিসেবে তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং অনেক ম্যাচেই কেকেআরের ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে।

নিচের টেবিলে নারাইনের আইপিএল ক্যারিয়ারের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো—

সূচকপরিসংখ্যান
ম্যাচ১৮৯
উইকেট১৯২
ইনিংসে ৫ উইকেট১ বার
ইনিংসে ৪ উইকেট৭ বার
রান১,৭৮০
সেঞ্চুরি
অর্ধশতক

আইপিএলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ২০০ বা তার বেশি উইকেট নিতে পেরেছেন মাত্র একজন—ভারতের যুজবেন্দ্র চাহাল (২২১ উইকেট)। তাঁর ঠিক পেছনেই রয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার, যার সংগ্রহ ১৯৮ উইকেট। তবে কোনো বিদেশি বোলার এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি—এটাই নারাইনের সামনে সবচেয়ে বড় সুযোগ।

একসময় বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন ডোয়াইন ব্রাভো (১৮৩ উইকেট)। এবার তিনি কেকেআর শিবিরে থাকলেও খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বরং পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন—যা নারাইনের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবেও কাজ করতে পারে।

২০২৬ মৌসুমে ২৯ মার্চ মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে কেকেআর তাদের অভিযান শুরু করবে। এরপর সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, পাঞ্জাব কিংস ও লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ধারাবাহিক ম্যাচ রয়েছে। এই কয়েকটি ম্যাচেই নারাইনের সামনে সুযোগ থাকবে ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠার।

সবকিছু ঠিক থাকলে, চলতি মৌসুমেই আইপিএলে নতুন এক অধ্যায় লিখতে পারেন সুনীল নারাইন—যেখানে তাঁর নাম জ্বলজ্বল করবে এক অনন্য রেকর্ডের মালিক হিসেবে।