আগামী পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ২০২৬-এ অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ থেকে মুস্তাফিজুর রহমানসহ ছয় ক্রিকেটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বেশ কিছু বড় পরিবর্তন ঘোষণা করা হয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান ও পাকিস্তান-আফগানিস্তান চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাত পিএসএলের আয়োজনকেও প্রভাবিত করেছে। ফলে টুর্নামেন্টের ভেন্যু, দর্শক ব্যবস্থা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুসারে, ২৬ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত ৮ দলের অংশগ্রহণে ৩৯ দিনে ৪৪টি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। এই ম্যাচগুলো পাকিস্তানের ছয়টি শহরে—করাচি, লাহোর, মুলতান, পেশোয়ার, ফয়সলাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি—উপস্থিত হবে। তবে চলমান যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় সব ম্যাচ মাত্র লাহোর ও করাচিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি জানিয়েছেন, “প্রতিদিন স্টেডিয়ামে ৩০ হাজার দর্শক আসতে পারলেও আমরা এত মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। তাই চলমান সংকট শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব খেলা দর্শকশূন্য অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে। এটি কঠিন সিদ্ধান্ত, কিন্তু সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রণে অপরিহার্য।”
নতুন সূচি অনুযায়ী, ২৬ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম ১৪টি ম্যাচ হবে লাহোরে, এরপর ১৫টি ম্যাচ করাচিতে অনুষ্ঠিত হবে। ২১ এপ্রিল থেকে লাহোরে ফেরানো হবে এবং কোয়ালিফায়ার রাউন্ডও রাওয়ালপিন্ডি থেকে সরিয়ে লাহোর ও করাচিতে আয়োজন করা হবে। ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ৩ মে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে।
উদ্বোধনী ম্যাচে মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন লাহোর কালান্দার্স মুখোমুখি হবে হায়দরাবাদ কিংসমেনের। এই ম্যাচ ও পরবর্তী সব ম্যাচই দর্শকশূন্য মাঠে হবে, যা খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হবে।
নিচের টেবিলে নতুন ভেন্যু ও ম্যাচ সংক্ষিপ্ত সূচি দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| টুর্নামেন্ট সময় | ২৬ মার্চ – ৩ মে ২০২৬ |
| অংশগ্রহণকারী দল | ৮টি দল |
| মোট ম্যাচ | ৪৪টি |
| প্রাথমিক ভেন্যু পরিকল্পনা | করাচি, লাহোর, মুলতান, পেশোয়ার, ফয়সলাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি |
| নতুন ভেন্যু | লাহোর ও করাচি (দর্শকশূন্য) |
| উদ্বোধনী ম্যাচ | লাহোর কালান্দার্স বনাম হায়দরাবাদ কিংসমেন, ২৬ মার্চ |
| ফাইনাল | গাদ্দাফি স্টেডিয়াম, লাহোর, ৩ মে |
| বিশেষ নির্দেশনা | দর্শকশূন্য মাঠ; উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল |
এই পরিস্থিতি পিএসএলের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সংকট বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে। খেলোয়াড়দের মানসিক স্থিতি ও কৌশলগত প্রস্তুতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মুস্তাফিজ ও অন্যান্য বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জন্য এটি দর্শকশূন্য মাঠে খেলার চ্যালেঞ্জ এবং নতুন পরিবেশে পারফরম্যান্স প্রদর্শনের সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হবে।
