ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঈদের নামাজের পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ নতুন মাত্রা পেয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে নামাজ শেষে দুটি পক্ষ আবারও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ দুই ঘণ্টা ধরে চলে এবং এ সময় কমপক্ষে ১০-১২টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়। স্থানীয়রা ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে ঈদ উদযাপন করেছেন।
এর আগের দিন, বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাত ৯টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত, গোপীনাথপুর গ্রামের একই দুই পক্ষ টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল। সেই সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছিলেন। ওই সংঘর্ষের পর থেকেই গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যা শনিবার সকালে পুনরায় সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতা বিদ্যমান। একপক্ষের নেতৃত্ব দেন ৬৫ বছর বয়সী ইসমাইল মুন্সী, অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী কামরুল মিয়া।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে গ্রামের একটি চায়ের দোকানে। সেখানে কামরুল মিয়া ও ইসমাইল মুন্সীর ছেলে ফুয়াদ হোসেনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর দুই পক্ষ ঢাল, সড়কি, রামদা ও ইটপাটকেল ব্যবহার করে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রথম সংঘর্ষের সময় স্থানীয় পুলিশ ও মাতুব্বরদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
শনিবারের সংঘর্ষেও দুই ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব ঘটে। কমপক্ষে ১০-১২টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “ইসমাইল মুন্সী ও কামরুল মিয়ার মধ্যে পূর্ব থেকেই বিরোধ রয়েছে। তারা ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হলেও আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সংঘর্ষের পর শনিবার আবার উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।”
ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান জানান, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে কিছু বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে।”
নিচে সংঘর্ষের সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | ভাঙ্গা, ফরিদপুর, হামিরদী ইউনিয়ন, গোপীনাথপুর গ্রাম |
| সংঘর্ষের তারিখ | ১৯ মার্চ রাত, ২১ মার্চ সকাল |
| সময়কাল | প্রতিটি সংঘর্ষ: ২ ঘণ্টা |
| অংশগ্রহণকারী পক্ষ | ইসমাইল মুন্সী ও কামরুল মিয়া নেতৃত্বাধীন গ্রামবাসী |
| সংঘর্ষের ধরন | ঢাল, সড়কি, রামদা, ইটপাটকেল ব্যবহার |
| ঘর-বাড়ি ক্ষতি | ১০-১২টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট |
| আহত | প্রাথমিক ঘটনায় ১০ জন, শনিবারের সংঘর্ষে আরও আহত |
| হস্তক্ষেপ | পুলিশ ও এলাকার মাতুব্বরদের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ |
| উত্তেজনার কারণ | আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতা |
সব মিলিয়ে, ঈদের আনন্দের দিনে এই সংঘর্ষ ভাঙ্গার সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে শঙ্কিত করেছে। দীর্ঘদিনের শত্রুতা ও আধিপত্যবোধ কখনো হঠাৎ সহিংস সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে—এটি স্থানীয়দের জন্য একটি সতর্কবার্তা। পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আরও কার্যকর তদারকি ও সামাজিক মধ্যস্থতার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।
