হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন যা একসময় তিনি হালকাভাবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে বর্তমানে সেই সংকটই তার ‘বিজয়’ অর্জনের পরিকল্পনায় বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে হাজির হয়েছে। ফলে তিনি আগের একক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে এসে এখন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দিতে শুরু করেছেন।
আগে ট্রাম্প জোর দিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেবে, এমনকি ন্যাটো মিত্র ও জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীদের সহায়তা ছাড়াই। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তিনি হরমুজ সংকটকে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা হিসেবে দেখছেন না। বরং তিনি এটিকে ‘পুরো বিশ্বের সমস্যা’ হিসেবে তুলে ধরছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এককভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ট্রাম্প এখন মিত্র দেশগুলিকে এই জটিল লড়াইয়ে টানতে চাইছেন। শুক্রবারের এক বক্তব্যে তিনি ন্যাটো মিত্রদের “কাপুরুষ” আখ্যায়িত করেন এবং হরমুজ প্রণালির উন্মুক্ত রাখার ক্ষেত্রে তাদের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছেন।
এই পরিবর্তনকে অনেকেই তার ‘কৌশলগত হতাশা’ হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর একক নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ট্রাম্প আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন।
নিম্নলিখিত টেবিলে ট্রাম্পের হরমুজ নীতি সংক্রান্ত কিছু মূল পরিবর্তন তুলে ধরা হলো:
| দিকনির্দেশ | প্রাথমিক মনোভাব | সাম্প্রতিক মনোভাব | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ | এককভাবে যুক্তরাষ্ট্র নেবে | আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন | পূর্বের কৌশল থেকে সরে আসা |
| মিত্রদের ভূমিকা | প্রয়োজন নেই | অংশগ্রহণ জরুরি | ন্যাটো ও এশিয়ান মিত্রদের টানার চেষ্টা |
| সংকটের ব্যাখ্যা | যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা | বিশ্বব্যাপী সমস্যা | হরমুজকে ‘গ্লোবাল ইস্যু’ হিসেবে পরিচয় |
| সমালোচনা | এড়িয়ে যাওয়া | খোলা সমালোচনা | মিত্রদের নিষ্ক্রিয়তা কটাক্ষ |
বিশ্লেষকরা আরও মনে করছেন, ট্রাম্পের এই হঠাৎ সুর পরিবর্তন কেবল কৌশলগত নয়, বরং রাজনৈতিক চাপের প্রতিফলনও। প্রেসিডেন্টের এ ধরনের প্রকাশনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, কারণ মিত্র দেশগুলো এখন কেবল সমর্থক নয়, বরং এই সংকটের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হবে।
ফলে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ কেবল সামরিক শক্তির মাধ্যমে নয়, কূটনৈতিক এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো এই দিকটিকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করছে।
মোট কথা, একক শক্তি ব্যবহার করে সমাধান না হওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন হরমুজ নীতিতে বিশ্ব অংশীদারিত্বকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতির দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
