ঈদুল ফিতর ঘিরে ঘরে ফেরার আবেগে যে গানটি বছরের পর বছর নতুন করে আলোচনায় আসে, তা হলো ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’। একসময় বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই গান আজ বাঙালির উৎসব-সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষ করে দ্বিতীয় সংস্করণ ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি ২’ মানুষের মনে এমনভাবে গেঁথে গেছে যে, এটি এখন ঈদযাত্রার এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক সংগীতে পরিণত হয়েছে। আর এই সংস্করণে কণ্ঠ দেওয়া শিল্পী মিঠুন চক্রের কাছে গানটি তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
মিঠুন চক্র মনে করেন, এই গানটি তার জন্য যেন নতুন করে জন্ম নেওয়ার মতো। তার ভাষায়, “একজন শিল্পীর জন্য এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে, যখন একটি গান মানুষের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে?” তিনি স্বীকার করেন, অনেকেই এখনো জানেন না যে গানটি তার কণ্ঠে গাওয়া। তবে এই বিষয়টি তাকে বিচলিত করে না। বরং তিনি এটিকে ইতিবাচকভাবেই দেখেন। তার মতে, একটি সৃষ্টিকর্ম যখন সবার হয়ে যায়, তখন সেটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য।
গানটির সঙ্গে তার যুক্ত হওয়ার গল্পও বেশ আকস্মিক। শুরুতে এই গানে কণ্ঠ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল না তার। সংগীত পরিচালক হাবিব ওয়াহিদের উদ্যোগেই তিনি এতে যুক্ত হন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন পাওয়ার পর গানটি প্রকাশিত হয় এবং অল্প সময়েই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। মিঠুন চক্রের ভাষায়, একটি সাধারণ ডেমো কণ্ঠই যেন পরিণত হয় অসাধারণ এক স্বীকৃতিতে।
গানটির প্রেক্ষাপট ও তথ্য সংক্ষেপে নিচে দেওয়া হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মূল গান প্রকাশ | ২০০৯ সাল |
| দ্বিতীয় সংস্করণ | ২০১৬ সাল |
| সুর ও সংগীতায়োজন | হাবিব ওয়াহিদ |
| গীতিকার | রাসেল মাহমুদ |
| কণ্ঠশিল্পী | মিঠুন চক্র |
| সাংস্কৃতিক গুরুত্ব | ঈদে ঘরে ফেরার প্রতীক |
বর্তমানে মিঠুন চক্র তার সংগীতজীবনকে নতুনভাবে গুছিয়ে এগিয়ে নিতে চান। দীর্ঘদিন বাদ্যযন্ত্রে নিজেকে ব্যস্ত রাখার পর এবার তিনি গায়ক হিসেবে আরও সক্রিয় হতে চান। তার নিজস্ব সংগীত উদ্যোগ ‘আর্ট অব চক্র’-এর মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে গান প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি চলচ্চিত্রে গান করার স্বপ্নও তার দীর্ঘদিনের।
বাদ্যযন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংগীত তার কাছে কেবল পেশা নয়, বরং জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ছন্দভিত্তিক প্রায় সব ধরনের যন্ত্রে তার দখল থাকলেও, সুরভিত্তিক যন্ত্রে শেখার আগ্রহ এখনো অটুট। তার বিশ্বাস, ভালোবাসা ও নিষ্ঠা থাকলে সংগীতের প্রতিটি দিকই আয়ত্ত করা সম্ভব।
এ মুহূর্তে তিনি বিভিন্ন সংগীত প্রকল্প, চলচ্চিত্রের গান এবং একটি পরিচিত সংগীতমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত আছেন। ঈদ উপলক্ষে তার নতুন গান মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিয়ে তিনি আশাবাদী।
সবশেষে, নিজের অবস্থান সম্পর্কে বিনয়ী এই শিল্পী বলেন, তিনি নিজেকে এখনো একজন সাধারণ বাদক হিসেবেই ভাবেন। শ্রোতাদের ভালোবাসাই তাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে, আর এই ভালোবাসাকেই তিনি তার সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে মনে করেন।
