পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এবারের ঈদে রাজধানী ছেড়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অন্তত ১৬ হাজার পুলিশ ও র্যাব সদস্য দায়িত্বে থাকবেন।
ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত। এ সময়ে ফাঁকা হওয়া রাজধানীতে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও সোনার মার্কেটে ডাকাতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য ডিএমপি ও র্যাব অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় তল্লাশি চৌকি ও টহল জোরদার করেছে।
ডিএমপি ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানান, “ঈদের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীতে ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্বে আছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ঘরমুখী মানুষের ঢাকা ছাড়ার পর বিপণিবিতান, টার্মিনাল ও আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন।”
নিরাপত্তা জোরদারের জন্য স্পর্শকাতর এলাকা, বিপণিবিতান, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনালে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশও অস্ত্রসহ দায়িত্ব পালন করছেন এবং হাতেনাতে ছিনতাইকারী ধরছেন।
রাতে ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ তিন পালায় মোট ৪ হাজার ৫০০ সদস্য ৩০০টি পিকআপ ভ্যানে টহল দিচ্ছেন। এছাড়া হেঁটে তল্লাশি করছেন ১,৫০০ পুলিশ সদস্য এবং মোটরসাইকেল টহল অব্যাহত রয়েছে।
ডিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার এস. এন. নজরুল ইসলাম বলেন, “ঈদে পুলিশের মনোযোগ দুই দিকেই—টার্মিনাল থেকে মানুষ যেন নির্দ্বিধায় বাড়ি ফিরতে পারে এবং ফাঁকা আবাসিক এলাকায় চুরি ও সিঁধ কেটে প্রবেশ প্রতিরোধ। বড় মার্কেট ও সোনার মার্কেটে ডাকাতি প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি রয়েছে।”
র্যাবও ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত। র্যাব ১, ২, ৩, ৪ ও ১০-এর প্রায় এক হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম. জেড. এম. ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত চুরি ও ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন ৩০টির বেশি তল্লাশি চৌকি এবং ৫০টির বেশি টহল দল কাজ করছে। এছাড়া গুজব ও অপপ্রচার রোধে সাইবার মনিটরিং দল, টিকিট কালোবাজারি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত, মহাসড়কে ডাকাতি ঠেকাতে বিশেষ টহল দল এবং প্রয়োজন হলে ডগ স্কোয়াড ও হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নিচের টেবিলে শহরের নিরাপত্তা পরিকল্পনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
| নিরাপত্তা এলাকা | মোতায়েনকৃত পুলিশ/র্যাব | টহল/চৌকি সংখ্যা | বিশেষ ব্যবস্থা |
|---|---|---|---|
| বিপণিবিতান | ১,০০০+ | ৩০+ | রাতের টহল, সাদা পোশাকে নজরদারি |
| সোনার মার্কেট | ৫০০+ | ২০+ | বিশেষ নজরদারি, নিরাপত্তা গ্যাপ বন্ধ |
| আবাসিক এলাকা | ১,৫০০+ | ২৫+ | হেঁটে টহল, ফুট প্যাট্রল |
| রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ড | ৫০০+ | ১৫+ | অতিরিক্ত চৌকি, সাইবার মনিটরিং |
| লঞ্চ টার্মিনাল | ৫০০+ | ১০+ | ডাকাতি প্রতিরোধ, ভ্রাম্যমাণ আদালত |
ঈদুল ফিতরের সাত দিনের ছুটিতে ঢাকা শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি ও র্যাবের এই প্রস্তুতি নগরবাসীর জানমাল ও শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
