পিরোজপুর সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়নের চলিশা এলাকায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে ভয়ঙ্কর হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাম রসুল (৫৭) এর বাড়িতে ঢুকে হামলাকারীরা তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের এলোপাতাড়ি মারধর করেছে। এসময় তারা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়েছে, এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন হানিফ শেখ, নারগিছ বেগম, হামিদা বেগম এবং রিনা বেগম। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, একই এলাকার আলমগীর শেখ (৪২) এবং সজীব শেখ (৩২) দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা নিয়মিত হুমকি ও ভয় সৃষ্টি করত।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে আলমগীর ও সজীবের নেতৃত্বে আরও ৩–৪ জন দেশীয় অস্ত্রধারী ব্যক্তি তার বাড়িতে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে ব্যবসায়ী এবং তার পরিবারের উপর চরম সহিংসতা চালায়। গোলাম রসুল এক ধারালো চাপাতি আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চেষ্টা করলে তার বাম হাতের বুড়ো আঙুলে গুরুতর জখম হয়।
ঘটনার সময়, ব্যবসায়ীর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা হামিদা বেগমের গলায় থাকা প্রায় ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও, রিনা বেগমের উপর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়।
আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। ঘটনার পর গোলাম রসুল পিরোজপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | টোনা ইউনিয়ন, চলিশা, পিরোজপুর সদর |
| ভুক্তভোগী | গোলাম রসুল (৫৭) |
| হামলাকারী | আলমগীর শেখ (৪২), সজীব শেখ (৩২) ও আরও ৩–৪ জন |
| হামলার কারণ | চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি |
| আহতদের সংখ্যা | ৫ জন |
| চুরি করা সম্পদ | প্রায় ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন (মূল্য প্রায় ২,৫০,০০০ টাকা) |
| আহতদের চিকিৎসা | পিরোজপুর সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা |
| পুলিশের পদক্ষেপ | লিখিত অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত শুরু |
এই হামলার ঘটনা স্থানীয় সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, হামলাকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য এটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে চাঁদা দাবির মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। হামলার ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা অপরিহার্য।
এই প্রতিবেদনে হামলার পেছনের প্রেক্ষাপট, হামলাকারীদের আচরণ এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে কাজ করবে।
