মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া থেকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটের পথে চলাচলরত একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ এবং তেলবাহী জাহাজের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে আজ বৃহস্পতিবার সকালে, এবং লঞ্চটিতে তখন প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী উপস্থিত ছিলেন।
পাটুরিয়া ঘাট থেকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এমভি রেজোয়ান লঞ্চটি মধ্যনদীতে পৌঁছালে একটি তেলবাহী জাহাজের পেছনের অংশের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। লঞ্চের যাত্রীরা জানায়, ধাক্কায় অনেকেই আহত হন—কিছু যাত্রীর হাতে-পায়ে আঘাত লাগে, আবার কারও মাথায় আঘাত ঘটে। সংঘর্ষের সময় দুই যাত্রী নদীতে পড়েও যান। তবে স্থানীয়রা দ্রুত সাহায্য করে তাঁদের আবার লঞ্চে উঠতে সাহায্য করেন।
যাত্রীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার মূল কারণ লঞ্চ মাস্টারের অবহেলা। তারা দাবি করেছেন, নদীতে লঞ্চ চালানোর সময় পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়নি। দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়।
দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, “ঈদের সময় যাত্রীদের নিরাপদ ও দ্রুত পরিবহনের কারণে লঞ্চটি অতিরিক্ত বহরে যুক্ত করা হয়েছিল। তবে এই ঘটনার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তদন্ত চালানো হবে।”
আহতদের তথ্য (প্রাথমিক)
| নাম/পরিচিতি | ধরন | আঘাতের স্থান | অবস্থা |
|---|---|---|---|
| ১ | যাত্রী | হাত-পা | হালকা |
| ২ | যাত্রী | মাথা | হালকা |
| ৩ | যাত্রী | হাত | হালকা |
| ৪ | যাত্রী | পা | হালকা |
| ৫ | যাত্রী | মাথা | হালকা |
| ৬–১০ | যাত্রী | বিভিন্ন | হালকা |
নৌপথে দুর্ঘটনা সাধারণত ঘাটগুলোর ঘনবসতিপূর্ণ সময় ও লঞ্চের অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে ঘটে থাকে। বিশেষত ঈদ বা অন্যান্য উৎসবের সময় যাত্রীদের চাপ অনেক বেড়ে যায়। অভিজ্ঞ নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লঞ্চ চালকদের প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে মানা হলে এই ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।
এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নৌপুলিশ এবং পোর্ট অথরিটি আরও কড়াকড়ি ও নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া লঞ্চ ও বাণিজ্যিক জাহাজের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার জন্য নিয়মিত চেকপোস্ট স্থাপন ও সচেতনতামূলক অভিযান চালানোর কথাও জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরে লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও বর্তমানে এটি পুনরায় সাভাবিকভাবে চলাচল করছে। তবে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক কাটাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
