ঝালকাঠিতে পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঝালকাঠি পুলিশ লাইনসের রেশন স্টোরে ভুয়া রেশন কার্ড তৈরি করে প্রায় ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা সহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করেছে। মামলা পিরোজপুরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা হয়। মামলাটি দায়ের করেছেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন।

অভিযুক্ত ও তাদের পদবী

ক্রমনামপদবী/দায়িত্ব
মো. আলাউদ্দিনসাবেক মেস ম্যানেজার, এএসআই, ঝালকাঠি পুলিশ লাইনস
আরিফ মাহামুদপুলিশ পরিদর্শক
মো. আল মামুনপুলিশ কর্মকর্তা
মো. রেজাউল করিমপুলিশ কর্মকর্তা
কাজী রাজীউজ জামানপুলিশ কর্মকর্তা
আতিকুর রহমানকনস্টেবল
সাইফুল ইসলামকনস্টেবল
মেহেদি হাসানকনস্টেবল
তৌফিক এলাহীপুলিশ অফিসের সহকারী
১০জহির উদ্দিনরেশন স্টোরের ওজনদার
১১সৈয়দ জসিম উদ্দিনবিক্রয় সহকারী

মামলার বিবরণ

দুদকের এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পরস্পরের যোগসাজশে মোট ২৫২টি ভুয়া রেশন কার্ড তৈরি করে রেশন সামগ্রী উত্তোলন করে ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার ৮৮৫ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

বছরভিত্তিক ভুয়া কার্ড ও আত্মসাতের অর্থের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

বছরভুয়া কার্ডের সংখ্যাআত্মসাতের অর্থ (টাকা)
২০১৩৬০১৪,৮১,১২৪
২০১৪৫৬২৯,২৭,৯২৮
২০১৫৬৩২৯,৪২,০৪৭
২০১৬৪৯১৯,৯২,২৫৯
২০১৭৩৯১৮,২০,৮৫৮
২০১৮৭৪৩৪,২০,৫১১
২০১৯৬৭৩৪,৬৮,৬৭১
২০২০১৪৮৭৩,৩৯,২৩৮
২০২১ (ডিসেম্বর)২৫২১,৪০,৪৮,২৪৯

অভিযোগের সারসংক্ষেপ

দুদকের এজাহার অনুসারে, ঝালকাঠি পুলিশ লাইনসের রেশন স্টোরে দায়িত্ব পালনকালে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময়ে ভুয়া কার্ড ব্যবহার করে রেশন উত্তোলন করতেন। প্রতিটি বছরের নির্দিষ্ট সময়ে কার্ড তৈরি ও ব্যবহার করে তারা পরস্পরের যোগসাজশে রেশন সামগ্রী আত্মসাৎ করেছিল।

দুদক জানিয়েছে, এই ধরনের কৌশল মূলত রেশন ব্যবস্থার তদারকি অভাব, নিয়ন্ত্রণহীনতা এবং সরকারি নীতি ও নিয়মের অপ্রয়োগকে কাজে লাগিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই লঙ্ঘন শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ নয়, বরং সরকারি সুবিধার হরণ এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থার অবমূল্যায়নও ঘটিয়েছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুদক আরও জানিয়েছে, সরকারের প্রণীত রেশন ও খাদ্য নিরাপত্তা নীতি কার্যকর করতে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।