ঢাকাসহ ১২ জেলায় কালবৈশাখীর শঙ্কা, ৮০ কিমি বেগে বাতাস

ঢাকা ও এর আশপাশসহ দেশের ১২টি জেলায় বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল পর্যন্ত তীব্র ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করে এই তথ্য জানিয়েছে।

সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, বুধবার রাত ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার মধ্যে নিম্নলিখিত এলাকায় পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সময়ে প্রবল বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসও রয়েছে, যা নৌপথে চলাচলে ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

আবহাওয়া অফিস নির্দেশ দিয়েছে নদীবন্দরগুলোতে ‘২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত’ প্রদর্শন করতে, যাতে নৌযান ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া স্থানীয় নৌযান মালিক ও যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চৈত্র মাসে আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়া বা কালবৈশাখীর প্রবণতা বেড়ে যায়। তাই সকাল পর্যন্ত নৌপথে চলাচলরত নৌযান ও যাত্রীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক।

নিচে ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাব্য প্রভাবিত জেলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:

জেলাঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাবজ্রসহ বৃষ্টিসতর্কতা ও নির্দেশনা
ঢাকা৬০–৮০ কিমি/ঘণ্টাহ্যাঁ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত
যশোর৬০–৮০ কিমি/ঘণ্টাহ্যাঁনদীবন্দর সতর্কতা
কুষ্টিয়া৬০–৮০ কিমি/ঘণ্টাহ্যাঁনৌযান সীমিত চলাচল
টাঙ্গাইল৬০–৮০ কিমি/ঘণ্টাহ্যাঁনিরাপদ স্থানে নোতু রাখা
ময়মনসিংহ৬০–৮০ কিমি/ঘণ্টাহ্যাঁ২ নম্বর সংকেত বজায় রাখা
ফরিদপুর৬০–৮০ কিমি/ঘণ্টাহ্যাঁনৌযান চলাচল সীমিত
মাদারীপুর৬০–৮০ কিমি/ঘণ্টাহ্যাঁসতর্কতার নির্দেশ
বরিশাল৬০–৮০ কিমি/ঘণ্টাহ্যাঁনৌযান নিরাপদ রাখা
পটুয়াখালী৬০–৮০ কিমি/ঘণ্টাহ্যাঁ২ নম্বর সংকেত প্রদর্শন
কুমিল্লা৬০–৮০ কিমি/ঘণ্টাহ্যাঁনদীবন্দর সতর্কতা
নোয়াখালী৬০–৮০ কিমি/ঘণ্টাহ্যাঁনৌযান সীমিত চলাচল
সিলেট৬০–৮০ কিমি/ঘণ্টাহ্যাঁনিরাপদ নোতু ও সতর্কতা

আবহাওয়ার এই বৈরী পরিস্থিতি দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথ ও নদীবন্দরগুলোর কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং নৌযান মালিকদের সতর্কতা অবলম্বন ও ঝুঁকি কমানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সার্বিকভাবে, ঢাকা ও ১২ জেলায় ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও নদীবন্দরগুলোকে সক্রিয় সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। চৈত্র মাসের এ ধরনের আবহাওয়ার কারণে নদীপথে চলাচলকারী নৌযান ও যাত্রীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।