লারিজানির পর ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রীও হামলার লক্ষ্য

ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অঙ্গনে টানটান উত্তেজনার মধ্যেই রাজধানী তেহরানে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব আলী লারিজানিকে হত্যার মাত্র একদিন পর, এবার ইরানের গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খতিবকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। ঘটনাটি মঙ্গলবার গভীর রাতে সংঘটিত হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করা হলেও, হামলার প্রকৃতি, ব্যবহৃত কৌশল কিংবা সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। বিশেষ করে, ইসমাইল খতিব এই হামলায় নিহত হয়েছেন কি না—সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি ইসরায়েলি পক্ষ। ফলে ঘটনাটি ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। এর আগে আলী লারিজানির হত্যাকাণ্ড দেশটির ক্ষমতাকাঠামোর ভেতরে বড় ধরনের ধাক্কা সৃষ্টি করেছিল। লারিজানি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরপরই আরেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে হামলা পরিস্থিতির গভীরতা আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ হামলা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের হামলা কেবল নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেই নয়, বরং ইরানের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার কৌশলের অংশ হতে পারে।

অন্যদিকে, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামোর বিরুদ্ধে গোপন অভিযানের অভিযোগের মুখে রয়েছে। যদিও এ ধরনের অভিযানের বিষয়ে ইসরায়েল সচরাচর সরাসরি স্বীকারোক্তি দেয় না, তথাপি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা—এই হামলাগুলো দুই দেশের মধ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধেরই বহিঃপ্রকাশ।

নিম্নে সাম্প্রতিক দুইটি উল্লেখযোগ্য ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:

ঘটনালক্ষ্য ব্যক্তিঅবস্থানবর্তমান অবস্থা
প্রথম হামলাআলী লারিজানিতেহরাননিহত (নিশ্চিত)
সর্বশেষ হামলাইসমাইল খতিবতেহরানঅনিশ্চিত

সামগ্রিকভাবে, ইরানে ধারাবাহিকভাবে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নয়, বরং পুরো অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন বিশ্বজুড়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।