ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অটোরিকশা চালক আশিক (৫৫) প্রাণ হারিয়েছেন। সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের মালিহাতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের ইরা মিয়ার ছেলে আশিক স্থানীয়ভাবে দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী একজন চালক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি যাত্রী পরিবহন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশিক যাত্রী নিয়ে আশুগঞ্জের দিকে অটোরিকশা চালাচ্ছিলেন। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী কাভার্ড ভ্যান তার অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর অটোরিকশাটি মুহূর্তের মধ্যে অচল হয়ে যায় এবং আশিক ঘটনাস্থলেই মারা যান।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে কাভার্ড ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয়রা জানায়, তারা চালকের অকাল মৃত্যুতে ক্ষোভে এই প্রতিবাদ চালান। খবর পেয়ে খাঁটিহাটা হাইওয়ে থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভ্যানটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
খাঁটিহাটা হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ড ভ্যানের চালকসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গত কয়েক বছরে অতিরিক্ত গতি, লাইনচ্যুতি এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অভাবে দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রাতের সময় দ্রুতগামী যানবাহনের কারণে পথচারী ও ছোট যানবাহনগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
নিচের টেবিলে দুর্ঘটনার প্রধান তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | আশিক (৫৫) |
| গ্রামের নাম | মালিহাতা পশ্চিমপাড়া, বুধল ইউনিয়ন, সদর উপজেলা |
| দুর্ঘটনার স্থান | ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, মালিহাতা এলাকা |
| দুর্ঘটনার সময় | ১৮ মার্চ, রাত সাড়ে ৯টা |
| যানবাহন | অটোরিকশা ও কাভার্ড ভ্যান |
| পুলিশি পদক্ষেপ | লাশ উদ্ধার, ভ্যান জব্দ, ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা |
| স্থানীয় প্রতিক্রিয়া | জনতা ক্ষুব্ধ, আগুন ধরানো ভ্যান |
পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, নিয়মিত যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক সতর্কতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন যে ভবিষ্যতে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে এই ধরনের ট্র্যাজেডি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
মোটকথা, রাতের আঁধারে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা এলাকার জনজীবনে গভীর শোকের ছাপ ফেলেছে। নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। আশিকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
