চকরিয়ায় ইজিবাইকের ধাক্কায় দোকানি নিহত

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার জিদ্দাবাজার এলাকায় আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মোশাররফ (৪৫) প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি স্থানীয় কৈয়াবিল ইউনিয়নের হামিদ উল্লাহ সিকদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং জিদ্দাবাজারে তারিন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি হার্ডওয়্যারের দোকান পরিচালনা করতেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, মোশাররফ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইজিবাইক থেকে নেমে জিদ্দাবাজারের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎই অপর একটি ইজিবাইক তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতাল পৌঁছে দেন, কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বড় ভাই শওকত আলী জানান, মোশাররফ চকরিয়া পৌর শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন এবং প্রতিদিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত যাতায়াত করতেন। তিনি একজন দায়িত্বশীল ব্যবসায়ী ছিলেন এবং স্থানীয় বাজারে তাঁর পরিচিতি ছিল সুনামধন্য।

চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আমিন বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তবে তখন অপর ইজিবাইকটি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি এবং দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।”

দুর্ঘটনার স্থান ও সময়ের তথ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:

তথ্যের ধরণবিবরণ
নিহতের নামমোহাম্মদ মোশাররফ
বয়স৪৫ বছর
পেশাহার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী
বসবাসহামিদ উল্লাহ সিকদারপাড়া, কৈয়াবিল ইউনিয়ন, চকরিয়া
দুর্ঘটনার স্থানজিদ্দাবাজার, চকরিয়া, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক
দুর্ঘটনার সময়সকাল ৯:৩০ (প্রায়)
প্রাথমিক কারণইজিবাইকের ধাক্কা
পদক্ষেপস্থানীয়রা উদ্ধার ও হাসপাতালে নেওয়া
পুলিশ কার্যক্রমইজিবাইক চোরাকারবারি শনাক্ত ও তদন্ত

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মোশাররফ ছিলেন একজন আন্তরিক এবং পরিশ্রমী ব্যবসায়ী। তার অকাল মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং পরিবারিক সদস্যরা শোক ও ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন।

পুলিশ এই দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীর সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। চকরিয়া এলাকার সাধারণ মানুষকে সড়ক পারাপারের সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে প্রমাণ করছে। নিরাপদ পারাপার এবং সঠিক যানবাহন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধের আহ্বান জানানো হচ্ছে।