ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাভার্ড ভ্যান চাপায় অটোরিকশা চালকের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মালিহাতা এলাকায় এক ভয়ঙ্কর সড়ক দুর্ঘটনায় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশার চালক আশিক (৫৫) নিহত হয়েছেন। নিহত আশিক সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের মালিহাতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের ইরা মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশিক যাত্রীবাহী অটোরিকশাটি নিয়ে আশুগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই আশিকের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার মুহূর্তে সড়কের পাশে থাকা স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল ঘিরে ধরেন এবং ক্ষিপ্ত হয়ে কাভার্ড ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভ্যানটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

খাঁটিহাটা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্ঘটনার সময় এবং পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে বোঝার জন্য নিম্নে একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যসূচী দেওয়া হলো:

তথ্যসূচিবিবরণ
দুর্ঘটনার তারিখ ও সময়১৭ মার্চ, রাত সাড়ে ৯টা
দুর্ঘটনার স্থানমালিহাতা, সদর উপজেলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
নিহতআশিক, ৫৫ বছর, মালিহাতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা
যানবাহন involvedসিএনজি অটোরিকশা, কাভার্ড ভ্যান
অটোরিকশার গন্তব্যআশুগঞ্জ
পুলিশি পদক্ষেপআগুন নিয়ন্ত্রণ, ভ্যান জব্দ, মরদেহ উদ্ধার, ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো
আইনগত ব্যবস্থাদায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তারা মনে করেন, সড়কে লেগে থাকা অযত্ন এবং অতিরিক্ত গতিসীমার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ঘটনায় সড়ক নিরাপত্তা এবং যানবাহনের নিয়মিত পরিদর্শনের প্রয়োজনীয়তা একবারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এ ধরনের ঘটনা সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর দুঃখ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক করেছেন যে, ভবিষ্যতে সড়কে অতিরিক্ত দ্রুতগামী যানবাহন ও নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মোটকথা, মালিহাতা এলাকায় ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শুধুমাত্র এক মানুষের জীবন শেষ করেছে না, বরং স্থানীয়দের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা এবং দ্রুত প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্বকেও সামনে এনেছে।