সারাদেশে বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা জারি

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের আটটি বিভাগের কিছু অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। দেশের সাধারণ আবহাওয়ায় সামান্য পরিবর্তন হলেও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৬১টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ১৮টি এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয় শ্রীমঙ্গলে। অন্যান্য এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ নিম্নরূপ:

জেলা/স্থানবৃষ্টিপাত (মিলিমিটার)
শ্রীমঙ্গল৪৯
নেত্রকোনা২৫
দিনাজপুর১৬
ময়মনসিংহ১৩

বুলেটিনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ অবস্থান করছে, যা দেশের আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলছে। এছাড়া মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আগামী একদিনে সিলেট বিভাগের কিছু অংশ এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’একটি এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রবৃষ্টি এবং বিদ্যুৎ চমকানোর ঘটনা ঘটতে পারে।

আগামী তিনদিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিম্নরূপ:

তারিখসম্ভাব্য প্রভাবিত জেলা/বিভাগআবহাওয়ার বিশেষ সতর্কতা
১৮ মার্চরংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেটঅস্থায়ী দমকা/ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি সম্ভাবনা
১৯ মার্চরংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামঅস্থায়ী দমকা/ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি সম্ভাবনা
২০ মার্চরংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামঅস্থায়ী দমকা/ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি সম্ভাবনা

বুলেটিনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৮ মার্চের পর থেকে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বেড়ে যেতে পারে। তবে ২০ মার্চের মধ্যে কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা পুনরায় সামান্য কমতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের মানুষের জন্য ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির কারণে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।

আবহাওয়ার এই অস্থির পরিস্থিতিতে ক্ষেতে চাষাবাদ, যান চলাচল এবং খোলা এলাকায় অবস্থান করা সম্পর্কে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় কৃষক ও সাধারণ জনগণকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সারাদেশে আবহাওয়ার এই অস্থিরতার কারণে জনজীবনে সামান্য বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। তবে সঠিক পূর্বাভাস ও সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব।