দেশের ব্যাংকিং খাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি জোরদারের ধারাবাহিকতায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদে আবারও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৬ মার্চ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. আবদুল জলিলকে পরিচালনা পর্ষদ থেকে অপসারণ করেছে। তিনি ব্যাংকটির স্বাধীন পরিচালক এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
একই সঙ্গে তাঁর স্থলে নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এস এম আবদুল হামিদকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদারের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মো. আবদুল জলিল ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের স্বাধীন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই সময় বাংলাদেশ ব্যাংক পূর্ববর্তী পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন করে পাঁচ সদস্যের একটি পর্ষদ গঠন করে। সেই পুনর্গঠিত পর্ষদের সদস্য হিসেবেই তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। দায়িত্বকালীন সময়ে তিনি ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন সিদ্ধান্তে অংশ নেন এবং নির্বাহী কমিটির কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন।
নতুন পরিচালক এস এম আবদুল হামিদ দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন পেশাজীবী। তিনি বাংলাদেশ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ইনস্টিটিউটের ফেলো সদস্য এবং অর্থ ও ব্যাংকিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। ২০১২ সালে আর্থিক খাতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি একটি সম্মানজনক উৎকর্ষ পুরস্কার লাভ করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি একাধিক বেসরকারি ব্যাংকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকাকালে তিনি ব্যাংকের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, নীতিপালন এবং অর্থপাচার প্রতিরোধ কার্যক্রম তদারকি করেন। পাশাপাশি তিনি আরও কয়েকটি ব্যাংকে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ব্যাংকিং খাতে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
বর্তমানে তিনি একটি স্বনামধন্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠানে অংশীদার হিসেবে কর্মরত আছেন এবং নিরীক্ষা, কর ও আর্থিক পরামর্শ প্রদান করছেন।
নিচে সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | পূর্বাবস্থা | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|
| পরিচালক পদ | মো. আবদুল জলিল দায়িত্বে | অপসারিত |
| নতুন নিয়োগ | প্রযোজ্য নয় | এস এম আবদুল হামিদ |
| নিয়োগ কর্তৃপক্ষ | বাংলাদেশ ব্যাংক | বাংলাদেশ ব্যাংক |
| পরিবর্তনের উদ্দেশ্য | পুনর্গঠিত পর্ষদ পরিচালনা | সুশাসন ও দক্ষতা বৃদ্ধি |
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংক পরিচালনায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এটি গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পরিচালন কাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সামগ্রিকভাবে, ইসলামী ব্যাংকের এই পরিচালনা পরিবর্তন দেশের ব্যাংকিং খাতে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক খাতকে আরও সুসংহত ও কার্যকর করে তুলতে পারে।
