ঢাকার সাভার উপজেলায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করার অভিযোগে এক বিএনপি নেতার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১৬ মার্চ) সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সাভার সদর ইউনিয়নের কলমা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন রায়।
অভিযানে লক্ষ্যবস্তু ছিল সাভার থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা এবং তার ভাই আরশাদ আলীর বাড়ি। কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তারা অনুমোদন ছাড়াই গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে আসছিলেন এবং সেই সংযোগের মাধ্যমে বাসাবাড়ির পাশাপাশি একটি কারখানাতেও গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছিল।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এর আগেও ওই বাড়িতে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। তবে প্রতিবারই পুনরায় গোপনে সংযোগ স্থাপন করে গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নজরে আসার পর তদন্ত করে পুনরায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে আরশাদ আলীর বাড়ির ভেতরে একটি পাকা পানির ট্যাংকের মধ্যে লুকিয়ে রাখা অবৈধ গ্যাস রাইজার শনাক্ত করা হয়। পরে সেটি জব্দ করা হয় এবং পুরো অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের কৌশলে অবৈধ সংযোগ লুকিয়ে রাখার ঘটনা মাঝে মধ্যেই ধরা পড়ে, যা গ্যাস সঞ্চালন ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
অভিযানের সময় আরশাদ আলী বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয় বলে জানান ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তারা।
কর্তৃপক্ষ বলছে, অবৈধ গ্যাস সংযোগ শুধু রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ই নয়, এটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি করে। গ্যাস লাইনে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়া, পাইপলাইনে লিকেজ এবং বিস্ফোরণের মতো ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এসব অনিয়ম। তাই অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
অভিযান শেষে কর্মকর্তারা স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, অনুমোদনহীনভাবে গ্যাস সংযোগ নেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে জরিমানা, সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এদিকে সাভার থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা মোবাইল ফোনে আমাদের প্রতিনিধি কে বলেন , তিনি বর্তমানে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে বিদেশে অবস্থান করছেন। তাই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারছেন না। তবে তিনি শুনেছেন যে তার ভাইকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় আমার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। দেশে ফিরে বিষয়টি খতিয়ে দেখব।”
নিচে অভিযানের সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযান পরিচালনার তারিখ | ১৬ মার্চ |
| স্থান | কলমা এলাকা, সাভার সদর ইউনিয়ন |
| অভিযানের নেতৃত্ব | নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন রায় |
| অভিযুক্ত | গোলাম মোস্তফার ভাই আরশাদ আলী |
| অপরাধ | অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও ব্যবহার |
| জরিমানার পরিমাণ | ১ লাখ টাকা |
| অনাদায়ে শাস্তি | ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড |
| উদ্ধারকৃত বস্তু | অবৈধ গ্যাস রাইজার |
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সাভারসহ আশপাশের এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
