শ্রীলঙ্কা গড়ে তুলছে জাতীয় বীমা তথ্য ব্যবস্থা

শ্রীলঙ্কা সরকার একটি জাতীয় বীমা তথ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই উদ্যোগের বিষয়ে জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কা বীমা নিয়ন্ত্রক কমিশনের চেয়ারম্যান ড. অজিত রাবিন্দ্র দে মেল। সম্প্রতি কলম্বোতে অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি গত বছরের প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি এবং কমিশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

ড. দে মেল উল্লেখ করেন, যানবাহন মালিকদের জন্য ডিজিটাল মোটর বীমা কার্ড চালু করা নিয়ে কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এটি চালু হলে যানবাহন বীমার তথ্য সহজেই যাচাইযোগ্য হবে এবং বীমা নথিপত্রের প্রচলিত কাগজপত্র ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করবে।

তিনি আরও জানান, শ্রীলঙ্কায় বর্তমানে ২৯টি নিবন্ধিত বীমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন ইতিমধ্যেই বেশ কিছু নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমার ডিসানায়াকে বলেন, সরকার দেশের অর্থনীতি উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অগ্রগতি অর্জনের উপর জোর দিচ্ছে। তিনি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান, নতুন প্রযুক্তিগত সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সহযোগিতা করুন। রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন, সরকার এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সব সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত এবং প্রশাসন সেই চেষ্টা করছে যাতে দেশের পূর্বে হারানো অর্থনৈতিক সুযোগগুলো পুনরুদ্ধার করা যায়।

ডিজিটাল বীমা কার্ড এবং তথ্য ব্যবস্থার আওতায় সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো:

  1. বীমা তথ্যের স্বচ্ছতা ও সহজ প্রবেশযোগ্যতা নিশ্চিত করা।

  2. যানবাহন মালিকদের ডিজিটাল সুবিধা প্রদান।

  3. বীমা কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।

শ্রীলঙ্কার নিবন্ধিত বীমা প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত তথ্য

বিভাগসংখ্যা
মোট নিবন্ধিত বীমা কোম্পানি29
জীবন বীমা কোম্পানি12
অ-জীবন বীমা কোম্পানি17
ডিজিটাল বীমা কার্ড পরীক্ষা প্রকল্পচলমান

ডিজিটাল মোটর বীমা কার্ডের কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে, এটি শ্রীলঙ্কার ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে একটি বড় ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে। সরকারের লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে তাল মিলিয়ে বীমা খাতের আধুনিকীকরণ এবং অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি করা।

ড. দে মেল উল্লেখ করেন, “আমরা চাই প্রতিটি যানবাহন মালিক এবং বীমা গ্রাহক সহজে ও নিরাপদে বীমা তথ্য অ্যাক্সেস করতে পারুক। একই সঙ্গে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রক তদারকি দিয়ে তাদের কার্যক্রম আরও দক্ষ করা হবে।”

এই পদক্ষেপগুলো শ্রীলঙ্কাকে একটি স্মার্ট, প্রযুক্তিনির্ভর বীমা পরিবেশ তৈরির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনগণের বীমা সুবিধা বাড়াবে।