সুন্দরবনে করিম শরীফ বাহিনীর সদস্য আটক

সুন্দরবনের মূর্তির খাল এলাকায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন, মোংলা ফ্লটিলিয়ার সদস্যরা অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ওসমান গণিকে (৩৮) আটক করেছে।

লে. কমান্ডার আবরার হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ওসমান গণিকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি চালিয়ে নিম্নলিখিত জিনিসপত্র জব্দ করা হয়েছে:

আলামতপরিমাণ
একনলা বন্দুক১টি
তাজা কার্তুজ১৬ রাউন্ড
ফাঁকা কার্তুজ৫ রাউন্ড

আটক ওসমান গণি সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি করিম শরীফ বাহিনীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং সরাসরি ডাকাতি কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতেন। এছাড়া ডাকাত দলকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের মাধ্যমে সহায়তা করতেন।

লে. কমান্ডার আবরার হাসান আরও বলেন, “সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্টগার্ড বাহিনী অভিযান অব্যাহত রাখবে। আটক ও জব্দকৃত আলামতের ভিত্তিতে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, সুন্দরবনে বিশেষ নজরদারি ও যৌথ অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হচ্ছে এবং দস্যুদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এই অভিযান শুধুমাত্র বনদস্যুদের কার্যক্রম প্রতিহত করার জন্য নয়, বরং স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেও পরিচালিত হয়েছে। কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, বনাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা জোরদারের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বনদস্যুদের সহায়তা করা ব্যক্তি ও জঙ্গলে অস্ত্র-গোলাবারু সরবরাহকারী চক্রকে কঠোরভাবে দমন করলে দীর্ঘমেয়াদে সুন্দরবনে অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। স্থানীয় প্রশাসন এবং কোস্টগার্ড যৌথভাবে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

কোস্টগার্ডের এই ধরনের অভিযান স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ জাগিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে করিম শরীফ বাহিনীর কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে এই আটককে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সুন্দরবনের বনদস্যু দমন অভিযানের ধারাবাহিকতায় আরও অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।