ফুটবল রয়েছে, তবু খেলতে পারছে না সে

প্রতি সপ্তাহে একই চিত্র। ১২ বছর বয়সী কিশোর আদু ফুটবল বুট বাঁধে, মাঠে নামার আগ্রহে কণ্ঠে উত্তেজনা নিয়ে অনুশীলন শুরু করে। সে দৌড়ায়, পাস দেয়, গোল করে—সবকিছুতেই যেন দলের স্বাভাবিক খেলোয়াড়।

কিন্তু রোববারের ম্যাচের দিন তার জন্য কষ্টের। মাঠে নামতে না পেরে গ্যালারিতে বসে বসে অন্যদের খেলা দেখা হয়ে যায় তার জন্য যন্ত্রণা। ধীরে ধীরে সে অনুশীলনের পরেও মাঠে যেতে চাইছে না।

আদু ক্যামেরুন থেকে এসেছে এবং স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উত্তর তেনেরিফের একটি স্থানীয় ফুটবল ক্লাবে খেলতে চায়। তবে অফিশিয়াল ম্যাচে নামার সুযোগ নেই। আদুর পালক মা–বাবা আনা ও এদুয়ার্দোর সঙ্গে সে দুই বছর ধরে আছেন। ফুটবল তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

শ্রেণিকক্ষে বা স্কুলে টিফিনের সময়ও সে বল নিয়ে খেলে; কিন্তু সাপ্তাহিক ম্যাচের দিনে সে হতাশ। আদুর মা–বাবা বলেন, “সে অনুশীলনে সব সময় থাকে, কিন্তু ম্যাচে নামতে পারে না। এখন সে বাড়িতে থাকতে পছন্দ করে, ম্যাচের ফল পরে জেনে নেয়।”

এই জটিলতার মূল কারণ হলো ফিফার নিয়ম: ‘রেগুলেশনস অন দ্য স্ট্যাটাস অ্যান্ড ট্রান্সফার প্লেয়ার্স’ এর ধারা ১৯ অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো খেলোয়াড় আন্তর্জাতিকভাবে দলবদল করতে পারবে না।

ফিফা এক সময় ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোকে আফ্রিকা বা দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ছোট বয়সী খেলোয়াড় আনার কারণে ‘মানব পাচার ও বাণিজ্যিক শোষণ’ রোধ করতে এই নিয়ম চালু করে। তবে ছোট স্থানীয় ক্লাবগুলোও এখন একই সীমাবদ্ধতার মধ্যে।

আদুর আন্তর্জাতিক রেজিস্ট্রেশনের জন্য নথিপত্র জটিল। ফিফা যাচাই করে:

শর্তব্যাখ্যাসমস্যা
অভিভাবক সংযোগখেলোয়াড়ের আসল মা-বাবা বা পালক পরিবারস্থানীয় অভিভাবকত্বকে ফিফা প্রায়ই যথেষ্ট মনে করে না
আবাসিক দূরত্ববাড়ি ও ক্লাবের মধ্যে ≤100 কিমিদূরত্ব বেশি হলে অনুমোদন অসম্ভব
উদ্দেশ্য যাচাইশুধু ফুটবলের জন্য দেশ পরিবর্তন নয়শিশুদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন

আদু এবং তার পরিবারের কষ্টে আরও এক বিশেষ ঘটনা: তিন বছরে সে মাত্র তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে, তবে অনুশীলন করেছে প্রায় ২৫০ বার।

আদু নিজেই ফিফার কাছে চিঠি লিখেছে, যেখানে সে বলেছে, “আমি শুধু অন্য বাচ্চাদের মতো খেলতে চাই। সবাই আমাকে জিজ্ঞাসা করে আমি কবে খেলতে পারব; কিন্তু আমি জানি না।”

বর্তমানে এই পরিস্থিতি শুধুই আদুর নয়। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে আরও অনেক আফ্রিকান শিশু একইভাবে অনুশীলন করে, কিন্তু লাইগাল ম্যাচ খেলা তাদের জন্য বন্ধ। এতে ক্লাবেরও সমস্যা হয়, কারণ মাঠে নামানোর মতো খেলোয়াড় থাকলেও কাগজে-কলমে তাদের ব্যবহার করা যায় না।

আদুর পরিবার আশা ছাড়েনি। তারা জানে, যখন প্রথমবার আদু মাঠে নামবে, সেটি হবে একটি উৎসবের দিন—ফলাফল নয়, কেবলমাত্র খেলার আনন্দের দিন।

ফুটবল আদুর জন্য কেবল খেলা নয়; এটি তার মানসিক স্থিতি, নতুন দেশে জীবন মানিয়ে নেওয়ার মাধ্যম। একদিন নিশ্চয়ই সে সেই সুযোগ পাবে।