বাবার শোকে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

পাবনার ঈশ্বরদীতে এক কিশোর তার বাবার আকস্মিক মৃত্যুর শোকে সহ্য করতে না পেরে বিষপান করে জীবনান্ত ঘটে। মৃতের নাম আলিফ ইসলাম (১৯)। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে দীর্ঘদিনের চিকিৎসার পর তার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, আলিফের বাবা তরিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ঈশ্বরদীর হাসপাতাল রোড এলাকায় চায়ের দোকান চালিয়ে পরিবারে উপার্জন করতেন। ১ মার্চ তিনি হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, পরিবারে প্রধান উপার্জনকারী হারানোর ফলে শোকের ছায়া নেমে আসে।

তরিকুল ইসলামের মৃত্যু ঘটার পর তার ছেলে আলিফ ইসলাম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। চিকিৎসকরা জানান, বাবা হারানোর বিষাদ সহ্য করতে না পেরে আলিফ বিষপান করেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা স্থানান্তর করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় ১০ দিনের চিকিৎসার পর মঙ্গলবার রাতে আলিফ মারা যান।

পরিবারের অভিভাবকরা জানিয়েছেন, দুই প্রজন্মের হঠাৎ মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারে দুঃখ ও শোকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

নামবয়সঅবস্থান/প্রাপ্তিমৃত্যু তারিখজীবিকা/পেশা
তরিকুল ইসলামঅজানাঈশ্বরদী, পাবনা১ মার্চ ২০২৬চায়ের দোকান ব্যবসায়ী
আলিফ ইসলাম১৯ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন১০ মার্চ ২০২৬ছাত্র

ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. মমিনুজ্জামান জানান, “বাবার মৃত্যু সহ্য করতে না পেরে আলিফ ইসলাম বিষপান করেছেন বলে আমরা শুনেছি। বিষয়টি তদন্তাধীন। পরিবারের প্রতি আমরা সহমর্মিতা জানাচ্ছি।”

প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিবেশী আবু তালেব জানান, “পরিবারের জন্য এটি দুটো ভীষণ ধাক্কা। বাবা ও ছেলের পরপর মৃত্যুর খবর শুনে পুরো এলাকা শোকমগ্ন। আমরা পরিবারকে সর্বাত্মক সমবেদনা জানাচ্ছি।”

স্থানীয় সমাজকর্মীরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, মানসিক বিপর্যয়ের সময় পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের পাশে থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এমন পরিস্থিতিতে কাউকে একা ছেড়ে দিলে বিপরীত প্রভাব পড়তে পারে, এবং প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উচিত।

এই দুঃখজনক ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয়রা শোকের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথাও মনে রাখছেন।