ইউরোপের সর্বোচ্চ স্তরের ক্লাব ফুটবলের প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়নস লিগ-এ শেষ ষোলোর দ্বৈরথের উত্তেজনা দিনে দিনে তীব্র হয়ে উঠছে। প্রতিটি দল তাদের ইতিহাস ও সাম্প্রতিক রেকর্ডের আলোকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা আসন্ন লড়াইয়ের পূর্বাভাস দেয়।
Table of Contents
গালাতাসারাই-লিভারপুল
তুরস্কের ক্লাব গালাতাসারাই ২০১৩-১৪ মৌসুমের পর প্রথমবার শেষ ১৬-তে উঠেছে। অন্যদিকে, ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুল শেষ ৯ মৌসুমে ৮ বার এই পর্বে উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। তবে সর্বশেষ দুই আসরে এই ধাপ থেকেই বিদায় নিয়েছিল তারা।
গালাতাসারাইয়ের ঘরের মাঠে ইংলিশ ক্লাবের বিরুদ্ধে রেকর্ড প্রশংসনীয়। সর্বশেষ ৯ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতেই হেরেছে তারা। বিশেষত লিভারপুল কখনো তুরস্কে জয়ী হয়নি (২ হারের পাশাপাশি ১ ড্র)।
চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর অ্যাওয়ে লেগে লিভারপুলের শক্তিশালী দখল; ১২টি ম্যাচের মধ্যে ৯টিতে জয়। এছাড়া গালাতাসারাইয়ের স্ট্রাইকার ভিক্টর ওসিমেন চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের প্রথম ২৫ ম্যাচে ১৬ গোল করেছেন। আফ্রিকান খেলোয়াড়দের মধ্যে এই সময়ে তার চেয়ে বেশি গোল আছে কেবল সেরহু গিরাসি (১৮ গোল)।
আতালান্তা-বায়ার্ন মিউনিখ
ইতালিয়ান ক্লাব আতালান্তা জার্মান ক্লাবের বিপক্ষে চমকপ্রদ রেকর্ড গড়েছে। শেষ ৫ ম্যাচের ৪টিতে জিতেছে তারা। বিশেষ করে ডর্টমুন্ড-এর বিপক্ষে ২-০ পরাজয়ের পর দ্বিতীয় লেগে ৪-৩ ব্যবধানে জয়ী হওয়া তাদের ফুটবল কৌশলের উদাহরণ।
বায়ার্ন মিউনিখ ইতালিয়ান ক্লাবের বিরুদ্ধে বেশ সফল। শেষ ১৬ ম্যাচের ১১টিতে জয়ী হয়েছে তারা। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর পর্বে বায়ার্ন প্রমাণ করেছে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়মিত পৌঁছায়; সর্বশেষ ১৪ বারের ১৩টিতেই। ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন শেষ ৩টি নকআউট ম্যাচে ৫ গোল করেছেন এবং মাত্র ২ গোল করলেই চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম ইংলিশ হিসেবে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করবেন।
নিউক্যাসল-বার্সেলোনা
বার্সেলোনা গ্রুপ পর্বে নিউক্যাসলের মাঠ সেন্ট জেমস পার্ক-এ ২-১ ব্যবধানে জয় পায়। এটি ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে তাদের চতুর্থ ধারাবাহিক জয়। নকআউট পর্বে বার্সেলোনার সফলতা চোখে পড়ার মতো; শেষ ১৫টি দ্বৈরথের ১০টিতে পরের পর্বে ওঠেছে তারা।
নিউক্যাসলের জন্য স্বস্তির খবর হতে পারে তাদের ঘরের মাঠের রেকর্ড। স্প্যানিশ ক্লাবের বিপক্ষে ৮টি হোম ম্যাচের ৫টিতে জয়ী হয়েছে তারা। এছাড়া লামিনে ইয়ামাল আজ চ্যাম্পিয়নস লিগে ৩০তম ম্যাচ খেলবেন এবং ১৮ বছর ২৪০ দিনের বয়সে ওয়ারেন জাইর এমেরিককে ছাড়িয়ে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করবেন।
আতলেতিকো মাদ্রিদ-টটেনহাম
নকআউট লড়াইয়ে ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে আতলেতিকো মাদ্রিদ অত্যন্ত সফল; শেষ ১৪টি দ্বৈরথের ১০টিতে জয়ী। তবে টটেনহাম স্প্যানিশ ক্লাবের বিপক্ষে খারাপ রেকর্ডের মালিক; আগের চারবার স্প্যানিশ ক্লাবের মুখোমুখি হলে প্রতিবারই বাদ পড়েছে।
টটেনহাম সাম্প্রতিক পাঁচ ম্যাচের প্রথম গোল নিজেরাই করেছে এবং শেষ ৬ ম্যাচের ৫টিতে কোনো গোল হজম করেনি।
শেষ ষোলোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান
| ম্যাচ | ঘরের রেকর্ড | বিপক্ষের রেকর্ড (AWAY) | বিশেষ তথ্য |
|---|---|---|---|
| গালাতাসারাই-লিভারপুল | ৯ ম্যাচে ৮ অজয় | লিভারপুল কখনো জয়ী নয় | ওসিমেনের ১৬ গোল, গিরাসির ১৮ গোল |
| আতালান্তা-বায়ার্ন | আতালান্তা ৫/৮ জয় | বায়ার্ন ১১/১৬ জয় | হ্যারি কেইন ৫০ গোলের কাছাকাছি |
| নিউক্যাসল-বার্সা | ৮ ম্যাচে ৫ জয় | বার্সা ৪-১ জয় | ইয়ামাল সর্বকনিষ্ঠ ৩০ ম্যাচের মাইলফলক |
| আতলেতিকো-মাদ্রিদ-টটেনহাম | আতলেতিকো ১০/১৪ জয় | টটেনহাম ০/৪ জয় | টটেনহাম শেষ ৬ ম্যাচে ৫টিতে অজয় |
চ্যাম্পিয়নস লিগের এই শেষ ষোলোর দ্বৈরথে দলগুলোর পারফরম্যান্স ও ইতিহাস প্রতিটি ম্যাচকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলছে। আগত লড়াইয়ে কোন দল পারবে ইতিহাস গড়তে, তা দেখার জন্য ফুটবলপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
